উপমহাদেশশিরোনাম

শ্রীলঙ্কায় করোনায় মৃত মুসলিমদের লাশ দাহ নিয়ে ক্ষোভ

শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে করোনা আক্রান্ত এক মুসলিম নবজাতককে মৃত্যুর পর দাহ করা নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। গত ৯ ডিসেম্বর ২০ দিন বয়সের শায়খ নামের শিশুটিকে বোরেলা নামক শ্মশানে দাহ করা হয়। মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ১৫ মুসলিমের মরদেহকে দাহ করা হয়েছে। দেশটির আইন অনুযায়ী, করোনা আক্রান্ত সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে দাহ করতে হবে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনায় সমাহিত এবং দাহ করা উভয় পদ্ধতিকেই সমর্থন করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা।
শায়খের পিতা এমএফএম ফাহিম আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, তার সন্তানের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার দৃশ্য সৈহ্য করার শক্তি তার ছিলনা। আমি তাদেরকে বলেছিলাম, যেখানে আমার সন্তানের মরদেহ পোড়ানো হচ্ছে সেখানে আমি যেতে পারি না।
আমার বন্ধুরা ও পরিবার কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করেছিল, আমরা যদি সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর না করি তাহলে তারা কীভাবে এমন পদক্ষেপ নিতে পারে! তারা জানিয়েছে, যেহেতু শায়খ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিল তাই তারা তার মরদেহ দাহ করেছে। তারা রীতিমত তাড়াহুড়ো করে আমার সন্তানকে দাহ করে। তারা আমাদের প্রশ্নের কোনো জবাবও দিতে পারেনি। তিনি বলেন, আমরা যদি শায়খকে সমাহিত করতে পারতাম তাহলে কিছুটা স্বস্তি পেতাম। কিন্তু এখন যা হয়েছে তা অসহনীয়।
এই ঘটনায় শ্রীলঙ্কার মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট গোতাবাইয়া রাজাপাকসের সরকার মুসলমানদের ধর্মীয় স্পর্শকাতরতাকে অবজ্ঞা করছে। যেখানে তাকে দাহ করা হয়েছিল, সেখানে রোববার স্থানীয় মুসলিমরা দলে দলে হাজির হয় এবং তার গেটে সাদা ফিতা টানিয়ে দেয়। প্রতিবাদ জানাতে শ্রীলঙ্কাজুড়ে অনেক মুসলিমই তাদের বাড়ির দরজা ও জানালায় সাদা ফিতা ঝুলিয়ে রাখে। এছাড়া, দেশটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ‘স্টপ ফোর্সড ক্রিমেশন’ হ্যাশট্যাগ লিখে প্রতিবাদ চলছে।
এদিকে, শ্রীলঙ্কাকে এমন নির্দেশনা থেকে সরে আসতে আহবান জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন চার বৃটিশ এমপি। ৫৭টি মুসলিম দেশের জোট ওআইসিও গত সপ্তাহে শ্রীলঙ্কার এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। এ নিয়ে শ্রীলঙ্কার মুসলিম সংগঠনগুলোর জোট ‘মুসলিম কাউন্সিল অব শ্রীলঙ্কা’র ভাইস-প্রেসিডেন্ট ইলমি আহমেদ বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনায় থাকার পরেও মুসলিমদের লাশ পুড়িয়ে ফেলা এক ধরণের বর্ণবাদ। তবে মাত্র ২০ দিনের একটি শিশুর মরদেহ জোর করে দাহ করার ঘটনা মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এখন আমরা মুসলিমরা করোনা সন্দেহ হলে হাসপাতালে যেতে ভয় পাই। অনেককেই গোপনে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button