sliderরাজনীতিশিরোনাম

৭ জানুয়ারি নির্বাচনের নাটক মঞ্চস্থ হতে দেয়া হবে না : নুর

জনগণের টাকা খরচ করে ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের নামে কোনো ভাগ-বাঁটোয়ারার নাটক মঞ্চস্থ হতে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় অসহযোগ আন্দোলনের গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবিতে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করে গণঅধিকার পরিষদ।

দৈনিক বাংলা মোড়, ফকিরাপুল, নাইটিংগেল মোড় এসব এলাকায় লিফলেট বিতরণ শেষে বিজয়নগর পানিরট্যাংকির মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। এরপর বিজয়নগর পানিরট্যাংকির মোড় থেকে মিছিল শুরু করে নাইটিংগেল মোড় ঘুরে বিজয়নগর পানিরট্যাংকির মোড়ে এসে শেষ মিছিল শেষ হয়।

লিফলেট বিতরণ শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, নির্বাচন কি হবে, কারা কতটি আসন পাবে, সেটা তো ১৭ ডিসেম্বর ভাগ-বাঁটোয়ারার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন ডিসি, এসপি, ওসি, ইউনওদের ভাগ-বাঁটোয়ারা ভাগ দিতে নির্বাচনের নামে এই প্রহসন হচ্ছে। জনগণের টাকা খরচ করে ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের নামে কোনো ভাগ-বাঁটোয়ারার নাটক মঞ্চস্থ হতে দেয়া হবে না। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে আছ, নিজের স্বার্থ কিংবা পরিবারের জন্য নয়। আমাদেরও সুযোগ ছিল, নির্বাচনে গেলে ২০-৫০ কোটি টাকা পেতাম, ৫-৭টি আসন পেতাম, কিন্তু দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমরা সেটি করিনি। দু’দিন আগে-পরে সরকার পরিবর্তন হবেই। অসহযোগ আন্দোলন সফল করতে আপনারা রাজপথে নেমে আসুন। সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। করোনাকালে আপনারা অনেকেই কর্মহীন ছিলেন। কাজেই আজ থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ১২ দিন পর্যন্ত অফিস-আদালত বন্ধ করে অসহযোগ আন্দোলন করুন। দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আমাদের আহ্বান, অফিস-আদালতে তালা দিয়ে বন্ধ করে দিন। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি, তবে আমাদের ওপর আঘাত আসলে আত্নরক্ষায় পাল্টা ব্যবস্থা নিতে হবে। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন, যাদের কাজই গুজব, প্রোপাগান্ডা ছড়ানো, সেই CRI প্রধানমন্ত্রীর সাথে কিছু তরুণদের নিয়ে Let’s Talk With Sheikh Hasina প্রোগ্রাম করছে। জানি না এই তরুণদের কতজন দেশপ্রেমিক কিংবা দেশকে নিয়ে ভাবে। জানি না তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে ছাত্রলীগ যে মিনি ক্যান্টমেন্ট বানিয়েছে সেটি থেকে মুক্ত করার বিষয়ে কোনো প্রশ্ন করেছে কিনা। গত ১০ বছর দেশের মানুষ ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের জনপ্রতিনিধি বা সরকার নির্বাচন করতে পারছে না এসব নিয়ে প্রশ্ন করেছে কিনা। হয়তো এই তরুণরা কিছু টাকার কাছে নিজেদের বিক্রি করেছে। তাদের দিয়ে নির্বাচনের প্রচার চালাবে। এই সরকার তরুণদের মাঝ থেকে নীতি নৈতিকতা কেড়ে নিয়েছে, দেশের তরুণদের ধ্বংস করতে মাদক ধরিয়ে দিয়েছে। ছাত্র ঐক্যের ডাক দেয়ায় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিনকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে কারাগারে রেখেছে। তার সাথে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। কারাগারে ১০ ফিট বাই ১০ ফিটের কনডেম সেলে রেখে মানসিক নির্যাতন করছে। যেখানে কোনো আলো বাতাস ডুকতে পারে না।

দলের সাধারণ সম্পাদক মো: রাশেদ খান বলেন, আমরা কোনো অন্যায় দাবি নিয়ে রাজপথে নামিনি। আমাদের দাবি, আমরা ভোট দিতে চাই। এটা কি আমাদের অপরাধ? আজকে দেশে গণতন্ত্র নাই, মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার ভূলন্ঠিত হয়েছে। অথচ দেখেন ভারত এই সরকারকে নগ্নভাবে সাপোর্ট দিচ্ছে। ১৪ সালে যেভাবে একতরফা নির্বাচনে সহযোগিতা করেছে, এবারও ডামি নির্বাচনে সাপোর্ট দিচ্ছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক সঙ্কটের দায় ভারত এড়াতে পারে না। আজকে দেখেন যারা জাতির সাথে বেইমানি করে নির্বাচনে গিয়েছে, তারাও বলছে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নেই। অর্থাৎ তারা এমপি হতে পারছে না। যারা জনগণের সাথে বেইমানি করেছে, তাদের সাথে আওয়ামী লীগও বেইমানি করবে। জাতীয় পার্টির বিষয়ে অনেকে বলছে, তাদেরকে জোরপূর্বক নির্বাচনে নেয়া হয়েছে। এসব হলো তাদের নাটক। জনগণের সাথে বেইমানি করায় আগামীতে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব জনগণ রাখবে না। আমরা এখনো বলছি, সময় ও সুযোগ আছে জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে নির্বাচন বর্জন করুন। এই নির্বাচন হলো বিরোধীদল খোঁজার নির্বাচন। কারণ ডামি নির্বাচনে কোনো বিরোধীদল অংশগ্রহণ করেনি। জনগণকে বলবো, আমরা ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছি না, আপনারাও যাবেন না৷ নীরব ভোট-বর্জন বিপ্লবের মাধ্যমে আপনারা একতরফা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকে দূরে থাকুন।

গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল হাসানের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ, শাকিল উজ্জামান, সহ-সভাপতি বিপ্লব কুমার পোদ্দার, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তরিকুল ইসলাম, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক নুরুল করিম শাকিল প্রমুখ।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button