sliderস্থানিয়

সৈয়দপুরে রেলের জমি উদ্ধার অভিযানে ১৬ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

তপন দাস, নীলফামারী প্রতিনিধি: সৈয়দপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ের মূল্যবান ভূসম্পত্তি দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। দুই দিনের এই বিশেষ অভিযানের প্রথম দিনে আজ সোমবার বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ১৬টি অবৈধ বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের জমি, জলাশয় ও স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (৮ জুন) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে। রেলওয়ের পাকশী বিভাগ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি), রেলওয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

রেলওয়ে সূত্র বলছে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে শহর সৈয়দপুরে রেলওয়ের প্রায় সাড়ে ৮০০ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি জমি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর দখলে রয়েছে। সরকারি জলাশয় ভরাট, আবাসিক ভবন নির্মাণ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং লিজের শর্ত ভঙ্গ করে বহুতল ভবন নির্মাণের মতো নানা অনিয়মের মাধ্যমে এসব জমি দখল হয়েছে।

উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্বদানকারী রেলওয়ের পাকশী বিভাগের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (ডিইও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গোলাহাট এলাকার জলাশয়টি রেলওয়ের নিজস্ব সম্পত্তি। এটি অবৈধভাবে ভরাট করে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরবর্তীতে তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু জলাশয় নয়, রেলওয়ের কোয়ার্টার, খালি জমি, কৃষি লিজের আওতাধীন ভূমি কিংবা অন্য যেকোনো রেলসম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
অভিযানে সৈয়দপুর রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী তোহিদুল ইসলাম, পার্বতীপুর রেলওয়ের কর্মকর্তা মহসিন আলী, উপসহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) প্রধান আহসান হাবিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রেলওয়ে পুলিশ, আরএনবি সদস্য ও থানা পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button