শিক্ষাশিরোনাম

হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা স্থগিত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান ‌‌’মাস্টারপ্ল্যান বিরোধী’ আন্দোলনের সংগঠক ও জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক সাইমুম ইসলামকে মারধরের ঘটনায় বিক্ষোভ করেছে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। হামলাকারী অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা অভিষেক মণ্ডলের বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে আন্দোলন নিয়ে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে আন্দোলনকারীরা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নের জন্য গ্রহণকরা ‘মাস্টারপ্ল্যান’ নানা বিতর্কের জন্মনিলে আন্দোলনে নামে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মাস্টারপ্ল্যান স্থগিত, দুর্নীতির তদন্তসহ ৩ দফাদাবিতে চলমান আন্দোলনে কার্যত অচল হয়ে পরেছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম। এই পরিস্থিতিতে সংকট নিরসনে আলোচনায় বসার প্রস্তাব নিয়ে যান উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।
সমস্যার যৌক্তিক সমাধানের শর্তে আন্দোলনের পাশাপাশি আলোচনায়ও বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু এর মাঝেই শনিবার আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৪৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের আবাসিক ছাত্র সাইমুম ইসলামের উপর হামলা হয়। সাইমুমকে মারধর করেন জাবি শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অভিষেক মণ্ডল। অভিযুক্ত অভিষেক মণ্ডল দেড় বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক পাশ করেন। তবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক জব্বার হলে থাকেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক জব্বার হল সংলগ্ন একটি খাবার দোকানে নাস্তা করতে যান সাইমুম। একই সময়ে সেখানে অভিষেক মণ্ডলসহ চার শিক্ষার্থী নাস্তা করছিলেন। এসময় সাইমুমের সাথে অভিষেকের কথাকাটাকাটি হয়। এর এক পর্যায়ে সাইমুমকে ধরে দোকানের বাইরে নিয়ে এসে লাকড়ি দিয়ে মারধর করে অভিষেক। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান কথা বলতে গেলে তার সাথেও উচ্চবাচ্য করেন অভিষেক মণ্ডল।
এই খবর ছড়িয়ে পরলে বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা। অভিষেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সাথে অভিষেক অবৈধ ভাবে ছাত্রাবাসে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ তুলে তাকে হল থেকে বের করে দেয়ার দাবি তোলেন। এর সূত্র ধরেই আন্দোলনকারীদের সাথে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারের নেতাকর্মীদের সাথে প্রশাসনের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক স্থগিত হয়ে যায়। আন্দোলনকারীদের সাথে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কথা বলতে আসেন। তখন তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া আগ পর্যন্ত আলোচনায় বসবে না বলে ঘোষণা দেন।
হামলার শিকার সাইমুম ইসলাম বাংলা’কে বলেন, ‘আমি প্রশাসনের লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি এটার যথাযথ শাস্তি চাই। সে একজন বহিরাগত ছাত্র হয়ে কিভাবে হলে থাকে এবং নিয়মিত ছাত্রকে মারধর করে তা প্রশাসনের কাছে জানতে চাই।’
অভিযুক্ত অভিষেক মণ্ডলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ঘটনায় আমিও আহত হয়েছি। এখানে সাইমুমের আচরণ খুব উদ্ধত আচরণ করায় এমন ঘটনা ঘটেছে।’
এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, ‘এটি একটি বিচ্ছিন্ন এবং ছোট ঘটনা। আমরা এটা সামাজিকভাবে সমঝোতা করার চেষ্টা করছি।’
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নুরুল আলম ও ট্রেজারার অধ্যাপক মনজুরুল হকের সাথে জরুরি বৈঠকে বসেছেন। বৈঠক শেষে ‘কঠোর’ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসেন।
এর প্রতিক্রিয়ায় আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদার বাংলা’কে বলেন, ‘ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের শাস্তির ব্যাপারে কোন আশ্বাসে কাজ হবে না। তার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দিলেই কেবল আমরা আলোচনায় বসব। যেহেতু সে অবৈধ ছাত্র তাকে হল থেকে বের করতে হবে এবং পুলিশের কাছে সোপার্দ করতে হবে।
উল্লেখ্য এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও আল বেরুনী হলের আবাসিক ছাত্র সোহায়েব ইবনে মাসুদকে মঙ্গলবার মশাল মিছিল আসায় শেষ হলে ফিরে গেলে তিনিও এক ছাত্রলীগ কর্মীর হাতে নির্যাতনের শিকার হন।
সুত্র : বাংলা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button