Uncategorized

হাতি আতঙ্কে নিদ্রাহীন রাত কাটাচ্ছে ঝিনাইগাতীবাসী

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা সীমান্তে হাতি আতঙ্কে নিদ্রাহীন রাত কাটছে পাহাড়ি গ্রামবাসীদের। বন্যহাতির দল পাহাড়ি গ্রামগুলোতে প্রতিনিয়ত তাণ্ডব চালাচ্ছে। কাঁচা ঘর-বাড়ি, ক্ষেতের ফসল, গাছপালা ও শাক-সবজির বাগান খেয়ে দুমড়ে-মুচড়ে একাকার করে দিচ্ছে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, গত প্রায় দুই যুগ ধরে বন্যহাতির উপর্যপুরি তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পাহাড়ি গ্রামবাসীরা। এ যাবত হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে ১৫জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। শতশত ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। হাতির তাণ্ডবে গৃহহীন হয়ে অনেকেই গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। বন্যহাতির তাণ্ডবে বিপর্যস্ত এসব পাহাড়ি গ্রামগুলো হচ্ছে- তাওয়াকুচা, পানবর, ছোটগজনী, বাকাকুড়া, হালচাটি, গজনী, গান্ধিগাঁও, নওকুচি, বানাইপাড়া, রাংটিয়া, গোমড়া, সন্ধ্যাকুড়া ও হলদিগ্রাম।
দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী আদিবাসী অধ্যুষিত এসব পাহাড়ি গ্রামগুলোতে বিভিন্ন জাতিগোত্র মিলে প্রায় ২০ হাজার লোকের বসবাস। এখানে ৩০ ভাগ লোক কৃষক এবং ৭০ভাগ লোক শ্রমজীবী। এসব পাহাড়ি গ্রামগুলোতে এখন বন্যহাতির তাণ্ডব অব্যাহত রয়েছে। গ্রামবাসীরা জানায়, হাতির দল দিনে গভীর অরণ্যে আশ্রয় নিচ্ছে এবং সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে দল বেঁধে খাদ্যের সন্ধানে নেমে আসছে লোকালয়ে। আধপাকা কৃষকদের ক্ষেতের ধান, কলার বাগান, বাঁশবাগানসহ অন্যান্য শাক-সবজির বাগান খেয়ে এবং পায়ে পিষে দুমড়ে-মুচড়ে একাকার করে চলেছে। বন্যহাতির কবল থেকে জান-মাল ও ক্ষেতের ফসল রক্ষার্থে শতশত কৃষক রাতজেগে পাহারা দিচ্ছে। ঢাকঢোল, পটকা ফাটিয়ে, মশাল জ্বালিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করছে। সনাতন পদ্ধতিতে হাতি তাড়াতে গিয়ে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে।
ছোট গজনী গ্রামের ফিলিসন সাংমা বলেন, শুরু থেকেই পাহাড়ি গ্রামগুলোতে বিদ্যুতায়নের দাবী করা হয়েছে। কিন্তু আজো তা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে গ্রামবাসীদের পেটে ভাত না থাকলেও রাতে হাতি তাড়াতে ২/৩লিটার কেরোসিন তেল হাতের নাগালে রাখতে হচ্ছে। যা অনেকের পক্ষেই সম্ভব না। গ্রামবাসী জানায়, শুরু থেকে প্রশাসনের পক্ষ হতে কেরোসিন তেলের যোগান দেওয়া হতো মাঝেমধ্যে। কিন্তু এখন আর কেউ খোঁজ নেয় না তাদের। গত এক সপ্তাহে বন্যহাতির দল এসব পাহাড়ি এলাকায় কৃষকদের প্রায় ২০ একর জমির ফসলের ক্ষতি করেছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা জানান, ব্যক্তিগত তহবিল থেকে কেরোসিন দিয়ে গ্রামবাসীদের সাথে নিয়ে কয়েকদিন যাবত রাতজেগে হাতি তাড়াচ্ছেন। এছাড়া স্থায়ীভাবে হাতি তাড়াতে সরকারীভাবে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে এসব পাহাড়ি গ্রামবাসীদের মধ্যে হাতি আতঙ্ক এবং নিদ্রাহীন রাত কাটছে।
ইত্তেফাক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button