হল থেকে মাদকসহ বহিরাগত আটক : বাঁচাতে ছাত্রলীগের তাণ্ডব

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইবির লালন শাহ হলে এ ঘটনার পর দুই শিক্ষার্থীকে ছিনিয়ে নেয় ছাত্রলীগ। পরে প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে ক্যাম্পাসে প্রচুর ভাঙচুর ও বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সন্ধ্যায় লালন শাহ হলের ১২৮ নম্বর কক্ষ থেকে বহিরাগত দানিয়েল, রফিকুল এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আকাশকে আটক করেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান। তাঁদের কাছ থেকে দেশি অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করে ইবি থানায় সোপর্দ করা হয়। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আকাশ ও রফিকুলকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়।
পরে লালন শাহ হল থেকে শতাধিক নেতাকর্মী প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে লাঠি নিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে। তারা ডায়না চত্বর ও আশপাশে বিভিন্ন স্থাপনা, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন স্থানে ভাংচুর চালায়।
এ সময় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ভাস্কর্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। মিছিলে পর পর প্রায় তিন ডজন ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার পর থেকে পুরো ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হলের ওই কক্ষে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দানিয়েল নামের এক বহিরাগতকে ব্যাগভর্তি মাদক ও বিভিন্ন সরঞ্জামসহ হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। রফিকুল নামের অন্য এক বহিরাগত পালিয়ে গেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে প্রক্টর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই নাটক সাজিয়েছেন।
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বলেন, নয় বোতল ফেনসিডিল, তিনটি চাপাতিসহ একজনকে থানায় আটক করে রাখা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এনটিভি।




