sliderস্থানিয়

হরিরামপুরে দুই পক্ষের বিবাদে পূজা উদযাপনে বাধায় মন্দির তালাবদ্ধ

মোহাম্মদ আলী,মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:মানিকগঞ্জের হরিরামপুর বাহিরচর কালি মন্দিরে পাঠাবলি নিয়ে দুই পক্ষের বিবাবে পূজা উদযাপনে বাধায় মন্দিরে তালাবদ্ধ দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

গত দুই সাপ্তাহ আগে কালীপূজায় (নামযোগ্য) অনুষ্ঠানে -পাঠাবলি নিয়ে বিবাব হয় ও দীর্ঘ তিন বছর যাবৎ বিবাদের কারণে বাহিরচর কালি মন্দিরে কোন ধরনের পূজা হয় না বলে সনাতনী দুই পক্ষের এমনই মন্তব্য করেন ।

সরে জমিনে গিয়ে দেখা গেছে,মন্দরে দুই পক্ষের দুটি প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছে। এক পক্ষ পাঠা বলিদানের পক্ষে প্রতিমা আরেক পক্ষের পাঠা বলিদানের বিপক্ষে প্রতিমা উঠানোর কারণে সাময়িক সমাধানের জন্য পুলিশ প্রশাসন সুষ্ঠু ও শান্তির লক্ষ্যে মন্দির তালাবদ্ধ করেন। এ বিষয়ে রামকৃষ্ণপুর ইউপি সদস্য ঝন্টু কুমার জানান, ধর্মীয় শাস্ত্র অনুযায়ী পাঠাবলির বিপক্ষে ২৮ পরিবার হলেও পাচ পরিবার পাঠাবলিদানের পক্ষে ও তারা জমি দাতা এবং পাঠাবলি দিয়ে পূজা করবে আজীবন ।

অপরপক্ষের পাঁচ পরিবারের পক্ষ হতে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের (দফাদার) কৃষ সরকার সাংবাদিকদের জানায়,আমি বাহিরচর সার্বজনীন কালি মন্দির এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বহুদিন ধরে আছি আমাদের পূর্ব পুরুষ পাঠাবলি দিয়ে পূজা করে আসছে আমরাও এটাই ধরে রাখবো।

এছাড়াও বাহিরচর কালি মন্দির এর প্রচার সম্পাদক হরিপদ মনিদাস আরো জানান,মন্দিরের পূর্বপুরুষ পাঠাবলিদান বলি ধারাবাহিক ভাবে পূজা পালন করতে পারি। আগামীকাল পূজা হওয়ার কথা থাকলেও পূজা করতে পারতেছি না। জমিদাতা মঙ্গল মনিদাস জানায়,দীর্ঘ পাচ বছর যাবৎ পূজা।
ওপর মহলের দাবি জানান, বলির জন্য পূজা বলি দিয়েই পূজা হবে।

২৮ পরিবারের পক্ষ হতে সূচরণ সরকার জানান,আমি বাহিরচর সার্বজনীন কালি মন্দির এর সহ সভাপতি হিসেবে বহু বছর যাবৎ পূজা উদযাপনের সাথে আছি, আমরা সবাই ধর্মীয় শাস্ত্র মোতাবেক পাঠাবলিদানের বিপক্ষে এবং এতোদিন আমরা ভূল পথে ছিলাম, এটা বুঝতে পেরেছি বর্তমানে আমরা ধর্মীয় শাস্ত্র মোতাবেক পাঠাবলিদানের বিপক্ষে প্রতিমা উঠিয়ে ছিলাম এবং পাঠাবলি ছাড়াই পূজা উদযাপন উপলক্ষে যাবতীয় কাজ করবো।

উল্লেখ,শ্রী গৌড় গোবিন্দ দাস মতে, শাস্ত্র অনুযায়ী কালিপূজায় পাঠাবলি দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং মহাপাপ।
সর্বোপরি ২৮ পরিবারের দাবি হলো,আমাদের মন্দিরে পাঠাবলি ছাড়া ধর্মীয় শাস্ত্র মোতাবেক সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে পূজা করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনে ওপর মহলের জোরদার দাবি জানাচ্ছি।

হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মুমিন খান মুঠোফোনে জানান,এবিষয়ে আমি অবজ্ঞত আছি, সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে যাতে সনাতনী হিন্দুগন আবার পূণরায় কালীপূজা করতে পাঠে এবং দুই পক্ষের মাঝে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরে আনার যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছি।অতিদ্রুত এ বিষয়ে সবাই নিয়ে সবার সম্মতিক্রমে সুষ্ঠু শূরাহা করার চেষ্টা করছি আশা করা যায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button