বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিশিরোনাম

‘স্বামীর সাথে কথা বলতে হয়েছে পাশের বাসার মোবাইলে’

ঢাকার ফার্মগেটের বাসিন্দা রেহানা বেগম। সকালবেলা ঘুম থকে উঠে ফোন হাতে নিয়ে দেখেন তার সিমটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এরপর বন্ধ হয়ে যায় তার সব ধরনের যোগাযোগ।

কর্মস্থলে থাকা স্বামী কিংবা স্কুল পড়ুয়া সন্তানের খোঁজখবরও নিতে পারছিলেন না। হন্যে হয়ে মেয়েকে সাথে নিয়ে ছুটে এসেছেন শীর্ষস্থানীয় একটি মোবাইল ফোন প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সেন্টারে সিম নিবন্ধন করাতে।

তিনি বলেন, “ সকালে দেখি মোবাইল বন্ধ। এরপর আমার স্বামী ফোন দিয়ে পায় না। পরে তার সাথে কথা বলতে হয়েছে পাশের বাসার মোবাইলে”।

একদফা সময় বাড়ানোর পরেও ‘করব-করব’ ভেবেও মোবাইল ফোনের সিমটির বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন করাননি রেহানা।

গ্রাহক সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষে থাকা গ্রামীণ ফোন বলছে, প্রতিষ্ঠানটির ১০ শতাংশ গ্রাহক নিবন্ধনের বাইরে রয়ে গেছে
গ্রাহক সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষে থাকা গ্রামীণ ফোন বলছে, প্রতিষ্ঠানটির ১০ শতাংশ গ্রাহক নিবন্ধনের বাইরে রয়ে গেছে

বাংলাদেশে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মোবাইল ফোনের সিম নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর পয়লা জুন থেকেই অনিবন্ধিত সিমগুলো বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বলছে, এখনো দেশে প্রায় আড়াই কোটি সিম নিবন্ধনের বাইরে রয়ে গেছে।

অপরাধমূলক কাজে সিম ব্যবহার বন্ধ করার লক্ষ্য সামনে রেখে গত ডিসেম্বর থেকে আঙ্গুলের ছাপ মিলিয়ে সরকার সিম নিবন্ধন চালু করার পর থেকে এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

নিবন্ধনের প্রসঙ্গটি বাংলাদেশের আদালত পর্যন্তও গড়ায় এবং আদালত এ প্রসঙ্গে করা একটি রিট খারিজ করে দেয়। অনেকেই এর বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইনও শুরু করেন এবং নিবন্ধন থেকে বিরত থাকেন।

অপরাধমূলক কাজে সিম ব্যবহার বন্ধ করতে ডিসেম্বর থেকে আঙ্গুলের ছাপ মিলিয়ে সিম নিবন্ধন চালু করে সরকার
অপরাধমূলক কাজে সিম ব্যবহার বন্ধ করতে ডিসেম্বর থেকে আঙ্গুলের ছাপ মিলিয়ে সিম নিবন্ধন চালু করে সরকার

গ্রাহক সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষে থাকা গ্রামীণ ফোনের কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের ১০ শতাংশ গ্রাহক নিবন্ধনের বাইরে রয়ে গেছে। চীফ অফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স মাহমুদ হোসেন বলছিলেন, ৩১শে মে পর্যন্ত তাদের গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৫ কোটির ৭০ লাখের বেশি।

গতকালে মধ্যরাতের পর তা কমে ৫ কোটি এক লাখে নেমে এসেছে। তবে আরো দেড় বছর পর্যন্ত গ্রাহক সিমটি নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন। সেজন্য সিমটি তাকে নতুন করে কিনতে হবে।

বিটিআরসির সচিব সারওয়ার আলম বলছিলেন, অনেকের একাধিক সিম আছে, সে কারণে অনিবন্ধিত সিমের সংখ্যটি বেশি বলে মনে করছেন তারা।

লাখ লাখ সিম বন্ধ থাকলে সামাজিক এবং আর্থিক খাতে তার কি প্রভাব পড়তে পারে এমন প্রশ্নে বিটিআরসির সচিব মিস্টার আলম বলছিলেন তেমন কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই তারা মনে করেন।

বরং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে এটি ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সিম অবৈধ ভিওআইপির জন্য ব্যবহৃত হত জানিয়ে তিনি বলেন, এবার সেগুলো বন্ধ হয়ে যাবে ।বিবিসি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button