খেলা

স্পেনকে মাটিতে নামালো ক্রোয়েশিয়া

ইউরোর মঞ্চে এক প্রকার অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল স্পেন। অবশেষে ১৫ ম্যাচ পর ‘অজেয়’ থাকার গৌরবটা হারালো ভিসেন্তে দেল বস্কের দল। মঙ্গলবার তাদের মাটিতে নামিয়ে এনেছে ক্রোয়েশিয়া। এক যুগ পর স্পেনকে ক্রোটরা উপহার দিল ভুলে যাওয়া পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ। পিছিয়ে থেকেও ম্যাচটা ক্রোয়েশিয়া জিতল ২-১ গোলে।

দারুণ এই জয়ের ফলে মুত্যুকূপের সেরা দলের স্বীকৃতি পেল এক লাখ জরিমানা গোনা ক্রোয়েশিয়া। ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘ডি’ গ্রুপ তালিকার চূড়ায় উঠেছেন মডরিচ-মান্দজুকিচরা। ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে বাঁচা-মরার পর্ব শুরু করবে স্প্যানিশরা।

গ্রুপের অন্য ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে কাঁদিয়ে আসরের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে তুরস্ক। চেকদের ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফিকে হয়ে যাওয়া নক পর্বে খেলার আশাটা বাঁচিয়ে রাখল তুর্কিরা। ৩ ম্যাচে তাদের ঝুলিতে আছে ৩ পয়েন্ট।

শিরোপা অর্জনের চেয়ে ধরে রাখাটাই বেশি কঠিন। প্রথম দুই ম্যাচে সেটা টের পায়নি স্পেন। চেক প্রজাতন্ত্র ও তুরস্ককে হারিয়ে শিরোপাযাত্রার বন্ধুর পথটাকে আরো মসৃন করে তোলে স্প্যানিশরা। আর তাতেই ক্লান্তি ছুঁয়ে দিল তাদের। তা না হলে ম্যাচের ৭ মিনিটে আলভারো মোরাটার গোলে এগিয়ে থাকা স্পেন কেনই বা ঘুমপাড়ানি ফুটবল খেলবে!

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের এক গোলের জবাব দু’টিতে দিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। ৭৩৫ মিনিট গোলবার অক্ষত রাখা স্প্যানিশরা এদিন ৪২ মিনিটের মধ্যে হজম করল দু’টি গোল। ৪৫ মিনিটে কালনিকের গোলে সমতায় ফেরে ক্রোটরা। ৮৭ মিনিটে সাদা-লাল জার্সিধারীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের উপলক্ষ্য এনে দেন পারসিক। এই গোলে ক্রোটরা এতটাই বুনো উল্লাস করল, বুঝি শিরোপাটাই জিতে গেছে তোরা! মাত্র ৩২ শতাংশ বল দখলে রেখে চ্যাম্পিয়নদের হারানো সেটাই বা কম কিসে!

ম্যাচ শেষে হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত স্পেন। লেখা যেত স্প্যানিশদের আরেকটি জয়ের গল্প। কিন্তু সেটা আর হতে দিলেন কই সার্জিও রামোস! ৭০ মিনিটে ম্যাচকর্তার দেয়া ‘উপহার’ সূচক পেনাল্টিটা কাজে লাগাতে পারলেন না রিয়াল মাদ্রিদ অধিনায়ক। ১৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম স্প্যানিয়ার্ড হিসেবে এদিন স্পট কিক থেকে নিশানাভেদে ব্যর্থ হলেন এই রক্ষণপ্রহরী।

অনকাঙ্খিত হলেও এই হার স্পেনকে মুখোমুখি করে দিয়েছে ইতালির। গত আসরে যাদের কাঁদিয়ে স্বপ্নের শিরোপা জিতেছিল দেল বস্কের দল। শেষ ষোলোতে সেই আজ্জুদেরই পাচ্ছে তারা। তাই ২০১২ ফাইনালের পুনর্মঞ্চটা এবার হয়ে যাচ্ছে নক আউট পর্বের শুরুতেই।

এদিকে গ্রুপের অন্য ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের বিদায় নিশ্চিত করে ২-০ গোলের জয় তুলে নিয়েছে তুরস্ক। ইলমাজ ও তুফানের দুই অর্ধের দুই গোলে মহা মূল্যবান ৩ পয়েন্ট পেয়েছে তারা। এমনিতেই গ্রুপপর্ব থেকে বিদায়। তার উপর রাতটা দুঃস্বপ্ন বয়ে আনল পিওতর চেকের জন্যও।

ক্লাব মৌসুমে গোল পোস্টের নীচে আলো ছড়ানো চেক এদিন ইউরোতে লজ্জাজনক রেকর্ডটাই গড়ে ফেললেন। তুর্কি ম্যাচের দু’টিসহ ইউরোর মঞ্চে মোট ২১টি গোল হজম করলেন এই শেষ প্রহরী। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে তাঁর চেয়ে বেশি গোল যে আর কেউ হজম করেননি!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button