সৌদিতে গেলেন অনেক আশা নিয়ে, ফিরলেন লাশ হয়ে

নাটোর প্রতিনিধি : ১৫ বছর আগে সৌদি আরবে চাকরি করতে যান নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ছেলে হারুন অর রশিদ (৪৫)। কথা ছিল নভেম্বর মাসে তার বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন তিনি। গত আগস্ট মাসে সৌদিতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।গতকাল মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কফিনবন্দী হয়ে হারুনের মরদেহ নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌরসভার মালিপাড়া এলাকার নিজ বাড়িতে এসে পৌঁচ্ছায়। এসময় কফিনবন্দী হয়ে হারুন বাড়িতে এলে একনজর তাকে দেখতে ছুটে আসেন আÍীয়-স্বজনেরা ও এলাকাবাসী ।সৌদি আরবে অনেক আশা নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। দেশে স্বজনদের কাছে অনেক টাকা পাঠাবেন। সংসারে সচ্ছলতা ফিরবে। আসবে সুদিন।
নিহত হারুনের ছেলে পারভেজ রশিদ জানান। সে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। সে বলে, আমার বয়স যখন এক বছর, তখন বাবা সৌদি আরবে যান। ১৫ বছর ধরে তিনি সেখানকার একটি কো¤পানির গাড়ি চালাচ্ছিলেন। দেশে প্রতিমাসে টাকা পাঠাতেন। এ নভেম্বর মাসে বাবার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু জীবিত নয়, মৃত অবস্থায় তিনি ফিরলেন।পারভেজ আরও বলেন, প্রতিদিন অন্তত একবার বাবার সঙ্গে মোবাইলে কথা হতো। কিন্তু আগস্ট মাস থেকে বাবাকে আর ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। সৌদি থেকে বিভিন্নজন বিভিন্ন কথা বলছিলেন।
২৫ আগস্ট সৌদি আরব থেকে ফোন করে বলা হয়—‘ইয়োর ফাদার ইজ লস্ট।’ পরে নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদের কাছে যাই। তিনি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, হারুন আগস্টের মাঝামাঝি গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সৌদিতে মারা গেছেন। পুড়ে যাওয়া শরীরের কিছু অংশ সেখানকার মর্গে রাখা আছে। পরে দূতাবাসের আবেদনে সেখানকার কর্তৃপক্ষ লাশ ফেরত পাঠাতে সম্মত হয়।
নিহতের স্ত্রী পারভিন আক্তার জানান, সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে ১৫ বছর ধরে তিনি প্রবাসে ছিলেন। তার একমাত্র ছেলে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তিনি এই নভেম্বরে একবারে দেশে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ফিরে এলেন, কিন্তু লাশ হয়ে।




