sliderস্থানিয়

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের কাঁঠালের কদর রয়েছে সারাদেশে

মোঃ আব্দুর রব মনসুর,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: বাংলাদেশের জাতীয় ফল হচ্ছে কাঁঠাল। কাঁঠালের পরিচিত সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা। এখানকার কাঁঠালের কদর রয়েছে সারাদেশে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কাজিপুর উপজেলায় কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। এখানকার উৎপাদিত সুমিষ্ট কাঁঠাল সিরাজগঞ্জ,বগুড়া,চট্রগ্রামসহ চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাহিরে রপ্তানি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিস। তবে ফলন ও চাহিদা অনুযায়ী কাঁঠালের দাম অনেকটা কম বলে জানিয়েছেন চাষিরা।

জানা গেছে, কাজিপুরের কাঁঠাল শুধু সিরাজগঞ্জ,বগুড়া, চট্রগ্রাম চাহিদাই পূরণ করেনা অনেক জায়গায় যাচ্ছে। এবার কাঁঠালের বিশাল একটি অংশ ঢাকা থেকে কাঠাল কিনতে আসা পাইকাররা। কাঁঠাল দেখতে খুবই সুন্দর, খেতেও সুমিষ্ট ও সুস্বাদু।

ইতিমধ্যে কাজিপুর উপজেলার গ্রামে গ্রামে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকারদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। পাইকাররা উপজেলার গ্রামে গ্রামে ঘুরে কৃষকদের কাছ থেকে কাঁঠাল ও কাঁঠাল বাগান কিনছেন। একটি গাছে ৫০ থেকে শতাধিক কাঁঠাল ধরে। মৌসুমের শুরুতে প্রকারভেদে একটি কাঁঠালের দাম ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা ছিল কিন্তুু বর্তমানে তা ৩০ থেকে ৭০ টাকা। একাধিক কাঁঠাল চাষী জানান, মৌসুমের শুরুতে দাম একটু ভালো পাওয়া গেলেও পরে চাহিদা অনুযায়ী দাম তেমন পাওয়া যায় না। এখানকার কাঁঠালের বাজারের দিকে তাকালে মনে হয় উৎসব শুরু হয়েছে। ভোরবেলা থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত কাঁঠালের হাট গুলোতে চলে বেচাকেনা।

হাটে কাঁঠাল বিক্রি করতে আসা একাধিক কাঁঠাল চাষী জানায়, এবারের ভাল কাঁঠালের ফলনে আমরা খুশি,দাম এখন একটু কম পাচ্ছি কিন্তুু মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পেয়েছি। ভরা মৌসুমে আমরা কখনোই ভাল দাম পাইনা কারন এ ফলটি দ্রুত পচনশীল। সরকার যদি ভরা মৌসুমে সংরক্ষনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতো তাহলে সবসময়ই আমরা ন্যায্য মূল্য পেতাম। উপজেলায় কাঁঠালের বাজারে বিভিন্ন জায়গা থেকে কাঁঠাল কিনতে আসা একাধিক পাইকার জানান, এখানকার কাঁঠাল অত্যন্ত সুস্বাধু বলে এই কাঁঠালের চাহিদাও মানুষের কাছে অনেক বেশি।

কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম জানায়, কাঁঠাল অত্যন্ত সুমিষ্ট সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর একটি ফল। কাঁঠাল দ্রুত পঁচনশীল হওয়ায় কাঁঠাল ও অন্যান্য ফল সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপনের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কাঁঠালের মৌসুম শুরুর পূর্ব থেকেই আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং মাঠ পর্যায়ে কর্মরত আমাদের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ কাঁঠাল চাষীদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা এবং পরামর্শ প্রদান করে আসছে যাতে ফলন সন্তোষজনক হয় এবং কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button