শিবগঞ্জ(চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: শিবগঞ্জে আসন্ন রবি শস্য চাষে সার নিয়ে হাজার হাজার কৃষকের হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ডিএপি সার নিয়ে হতাশায় নিমজ্জিত কৃষক সমাজ। কারন ডিএপি সার বীজ বপনের পৃর্বে জমির নীচে দিতে হয়। কৃষকদের দাবী সার নিয়ে ডিলারদের যোগসাজসে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সার সংকট তৈরি করা হচ্ছে এবং বাইরে বেশী দামে সার বিক্রি করা হচ্ছ।
সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্তৃপক্ষ বলছেন কৃষকদের আগাম সার মজুদ রাখার প্রবনতা থেকে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কোন সার সংকট নেই এবং কোন সিন্ডিকেটও নেই। সরেজমিনে শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে সার নিয়ে এক ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে।
রবিবার মনাকষা বাজারে সার ডিলার আকবর আলির নামে তার ভাই নজরুল ইসলামের সারের গোডাউনের সামনে সহস্রাধিক কৃষক সারের জন্য অপেক্ষা করছে। অপেক্ষায় থাকা তারাপুর থেকে আসা শামীম জানান আমি গতকাল রাত থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করে এ পর্রন্ত সার পাইনি। তিনি আরো জানান এ মৌসুমে আমি ২০বিঘা জমি চাষ করছি। তাতে ডিএপি সার লাগবে কমপক্ষে চার বস্তা। এখন পর্যন্ত এক বস্তাও পাইনি।
পারচৌকার তাহসান(৭০) বলেন আমি অসুস্থ মানুষ হয়েও গতরাত দুইটা থেকে অপেক্ষা করছি। ভীড়ে আমার আইডি কার্ডটিও জমা দিতে পারিনি। চার বিঘা সরিষা ও দুই বিঘা ভুট্টা চাষ করছি। ডিএপি সার লাগবে কমপক্ষে দুই বস্তা। সাহাপাড়ার আব্দুস সালাম জানান, তিনভাগের একভাগ ডিএপি সার গোপনে বেশী দামে ডিলার ও কৃষি অফিসাররা যোগসাজস করে বাইরে বিক্রি করে দিচ্ছে। আর আমরা হয়রানীর শিকার হচ্ছি। একজন কৃষক বলেন৷ আমি অনেক চেষ্টা করেও সরকারী গোডাউনে থেকে সার না পেয়ে বাইরের দোকান থেকে ১৮০০ টাকা দিয়ে একবস্তা ডিএপি সারের বস্তা কিনেছি। কয়েকটি গোপন সূত্রে জানা গেছে ডিএপি সারের সরকারী রেট হলো ১০৫০ টাকা। কিন্তু গোডাউনের ম্যানেজার ও ডিলাররা গোপনে ১২০০ বস্তা দরে বিক্রি করে দিচ্ছে। বাইরের দোকানদাররা ডিএপি সার বস্তা প্রতি ১৭০০/১৮০০০ টাকা করে বিক্রি করছে।
সরেজমিনে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে ও দেখে একই চিত্র পাওয়া গেছে। তবে
শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ নয়ন মিয়া জানান কোন সার সংকট নেই। কোন সিন্ডিকেট নেই। সার নিয়ে কোন দূর্নীতিও হচ্ছে না। সার সংকটের গুজবের কারনে কৃষকরা অগ্রীম সার মজুদ রাখতে বিশৃঙ্খলা ঘটাচ্ছে। আমরা বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করেছি। শিবগঞ্জে ২৩জন ডিলার রয়েছে। তাদের ম্যানেজারের মাধ্যমে সঠিকভাবে সার বিতরণ করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান রবি শস্য মৌসুমে ডিএপি ৭৬০ মেট্রিক টনএম ও পি,৩০০ মেট্রিক টন, টিএসপি ২২৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া ৫০০ মেট্রিক টনব বরাদ্দ দেয়া হযেছে। যা চাহিদা মোতাবেক দেয়া হযেছে। কোন সার সংকট হবে না। তিনি আরো জানান ম্যানেজার বা অন্যকেউ কোন ধরনের সিন্ডিকেট তৈরী করতে পারবে না। কারণ আমরা গোডাউন থেকে সারের বস্তা দেয়া সময় গণনা করে দিই এবং ডিলারদের গোডাউনে পৌঁছানোর পর আবারো বস্তা গণনা করা হয় এবং বিতরণের সময় প্রতিটিটি গোডাউনে এক বা দুইজন করে উপসহকারী কৃষি অফিসার উপস্থিতিতে আবারো গণনা করে বিতরণ শুরু করা হয়।