Uncategorized

সাংবাদিক সুশান্তের বিপক্ষে সভা, হবিগঞ্জে হিন্দু-খৃষ্টান-বৌদ্ধ পরিষদের সভাপতি-সম্পাদক বরখাস্ত

হবিগঞ্জর এমপি আবু জাহিরের পক্ষে দায়ের হওয়া ডিজিটাল মামলায় কারান্তরীণ দৈনিক আমার হবিগঞ্জের সম্পাদক সুশান্ত দাশ গুপ্তের বিরুদ্ধে সভা ও সিদ্ধান্তবলি প্রচার করার অভিযোগে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান পরিষদ হবিগঞ্জ শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সাসপেন্ড (বরখাস্ত) করা হয়েছে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রানা দাশ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
জেলার সভাপতি জগদীশ চন্দ্র মোদক ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট স্বরাজ রঞ্জন বিশ্বাসের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, গত ৩০ মে হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান পরিষদ ও পূজা উদযাপন পরিষদের হবিগঞ্জ শাখার ‘কথিত সভা ও সিদ্ধান্তবলী’ কেন্দ্রীয় কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই সভা ও সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশ-বিদেশ থেকে নানা অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। সুশান্ত দাশের পত্রিকা, অনলাইন বা ফেইসবুকে সংখ্যালঘু ও এমপি আবু জাহিরকে জড়িয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ হয়নি। ভিন্ন সংবাদ পরিবেশনের কারণে সুশান্ত কারাগারে রয়েছেন।
এর সাথে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো বিষয় জড়িত নয়। এমতাবস্থায় হিন্দু খৃষ্টান বৌদ্ধ পরিষদের সভা ও সিদ্ধান্ত সর্বত্তোভাবে অবাস্তব, অযৌক্তিক ও অবান্তর বলে কেন্দ্রীয় কমিটি মনে করে। এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।
এমতাবস্থায় সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৭(ঙ) (২) ধারামতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি, কমিটির সদস্য জগদীশ চন্দ্র মোদক ও সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট স্বরাজ রঞ্জন বিশ্বাসকে সাসপেন্ড করা হলো। একই সাথে তাদের সদস্য পদ থেকে কেন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না ৭ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য চিঠিতে বলা হয়েছে।
সাসপেন্ড হওয়া জেলা সভাপতি জগদীশ চন্দ্র মোদক স্বীকার করেন যে, সুশান্ত দাশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান পরিষদের বিরুদ্ধে কিছু লেখেননি। আমাদের সংগঠন ও পূজা উদযাপন পরিষদের কিছু প্রবীণ ও নবীন নেতাকর্মী অতি উৎসাহী হয়ে সভা আহ্বান করায় আজকে এই পরিস্থিতি সুষ্টি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সিলেট শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুশান্ত দাশ গুপ্ত গত পয়লা বৈশাখ দৈনিক আমার হবিগঞ্জ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন।
পত্রিকার বিভিন্ন সংখ্যায় হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমপি আবু জাহির, ত্রাণের চাল আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত জেলার কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও ছাত্রলীগ নেতাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়।
গত ২০ মে দিবাগত রাত ১২টা ১৫মিনিটে হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সায়েদুজ্জামান জাহির বাদী হয়ে হবিগঞ্জ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পত্রিকার সম্পাদক প্রকাশক সুশান্ত দাশ গুপ্ত, নির্বাহী সম্পাদক নুরুজ্জামান মানিক বার্তা সম্পাদক রায়হান উদ্দিন সুমন প্রতিবেদক তারেক হাবিবের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
তিনি হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের ‘আজীবন সদস্য’ আবু জাহির এমপির বিরুদ্ধে অসত্য সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ করেন মামলার এজাহারে।
২১ মে ভোর ৬টায় হবিগঞ্জ থানার পুলিশ দৈনিক আমার হবিগঞ্জ অফিস থেকে সম্পাদক সুশান্ত দাশ গুপ্তকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের ভয়ে বাকি সাংবাদিকরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
সুশান্ত গ্রেপ্তারের পর পরই দেশ বিদেশে কর্মরত সাংবাদিক, সম্পাদকসহ বিভিন্ন মহল প্রতিবাদের ঝড় তোলেন সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুক ও গণমাধ্যমে।
এদিকে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে যখন হবিগঞ্জের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারছিলেন না, ঠিক তখনই হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান পরিষদ ও পূজা উদযাপন কমিটি হবিগঞ্জ জেলা শাখা গত ৩০ মে হবিগঞ্জ কালিবাড়িতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
তারা আবু জাহিরের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় সুশান্ত দাশের শাস্তি ও দৈনিক আমার হবিগঞ্জের বন্ধের দাবি করেন।
সভায় বক্তারা দাবি করেন, আবু জাহির এমপি একজন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। তার সহযোগিতার কারণে হবিগঞ্জের ‘সংখ্যালঘুরা মায়ের গর্ভে’ আছেন।
এদিকে গত ২৭ মে হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সুশান্ত দাশের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হয়। বিবাদী পক্ষ জেলা ও দায়রা জজ কোর্টে জামিন আবেদন করেছে বলে জানা গেছে। দেশ রূপান্তর

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button