‘সাংবাদিক বেটারা দেশ অস্থির করে ফেলে’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এ্যাভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, আগামী নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনেই হবে। তিনি বলেন, পৃথিবীর কোন শক্তি নেই যে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন রুখতে পারে। জামালপুরের ইসলামপুরে যমুনার তীরবর্তী গুঠাইল উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ মাঠে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ছাত্রছাত্রীদের মাঝে সোলার হ্যারিকেন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মঙ্গলবার সন্ধায় জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কবীর উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হ্যারিকেন বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, চাকরি জীবিদের বেতন বেড়েছে ১০০ ভাগ। দেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হয়েছে। কৃষকের আলু, পেয়াজ ও ধান অর্থাৎ কৃষি পন্যোর দাম বাড়লেই সাংবাদিক বেটারা দেশ অস্থির করে ফেলে। তোমরা সাংবাদিক বেটারা কি করো সেটাও আমরা জানি।
মন্ত্রী বলেন, আমরা পত্রিকা পড়ি কিন্তু শেখ হাসিনা পত্রিকা পড়ে দেশ চালায় না। তিনি প্রশ্ন রাখেন, খালেদা জিয়া গভীর রাতে গাড়িতে আগুন দিলে সেখানে কি করে সাংবাদিকরা বেটারা হাজির হয়।
ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এমাজ উদ্দিনের সমালোচনা করে গণশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, যিনি তারেক রহমানকে নিয়ে বই লেখেন তিনি আবার বলেন বর্তমানে শিক্ষার কোন মান নেই। নকল হচ্ছে কোথায় নকল হচ্ছে। দেখাতে পারবেন। আমরা শিক্ষা খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। শিক্ষার্থীদের সোলার হ্যারিকেন,বই ও শত ভাগ উপবৃত্তি দিচ্ছি। তার পরেও আমরা নাকি কিছুই পারছিনা। দেশ নাকি রসাতলে যাচ্ছে। তিনি আবার না কি রাষ্ট্র বিজ্ঞানী। উনারা তো বাংলাদেশের দিকে তাকান না। তারা তো পাকিস্থানের দিকে তাকিয়ে থাকেন। তাই এ দেশের উন্নয়নের জোয়ার তারা দেখতে পায় না।
খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমরা নাকি লুট করি, মা জননী কোথায় লুট হলো একটু দেখিয়ে দিবেন কি? বিএনপি সমালোচনা ভালো পারে। এক সময় সার নিতে হলে কৃষকদের জমির কাগজ দেখাতে হতো। এখন সার কৃষক নিজে খাক, গরুকে খাওয়াক আর যাই করুক কোন কফিয়ত দিতে হয় না।
খালেদাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বেগম মা জননী আপনি,আপনার স্বামী জিয়া ও দেবর এরশাদ অনেক দিন ক্ষমতায় থেকেছেন দেশের তো কোন উন্নয়ন করতে পারেন নি। আমার নেত্রী শেখ হাসিনা চ্যালেঞ্জ করে পদ্মা সেতু করেছে। আগামী ১৮ সালের মধ্যে বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুত দেওয়া হবে। আপনি লুটের কথা বলেন। আমরা লুট করে খেলেও কাজ করেছি। আপনি কি করেছেন। আপনি টাকা গুলো কোথায় রেখেছেন। সৌদী আরব নাকি মালেশিয়ায়। একটি হাতির ঝিলও তো করতে পারেন নি। তিনি বলেন, বাংলার মানুষ আমাদেরকে ক্ষমতায় এনেছে। আমেরিকা-ভারত কিংবা পাকিস্থান আমাদের ক্ষমতায় আনে নি।
এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় এমপি আলহাজ ফরিদুল হক খান দুলাল,উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলার চেয়ারম্যান নবী নেওয়াজ খান লোহানী বিপুল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, পৌর মেয়র আব্দুল কাদের শেখ, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাভোকেট আব্দুস সালামের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন- জেলা পরিষদ সদস্য ওয়ারেছ আলী, বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক প্রমুখ। পরে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছয় হাজার সোলার হ্যারিকেন বিতরণ করা হয়।



