sliderস্থানিয়

কাজিপুরে দেশীয় মাছ আজ বিলুপ্তের পথে

মোঃ আব্দুর রব মনসুর, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চলে দেশীয় প্রজাতির মাছ আজ বিলুপ্তির পথে। এ অঞ্চলের খাল-বিল, নদী-নালাসহ মুক্ত জলাশয়গুলো ধীরে ধীরে মাছশূন্য হয়ে পড়ছে। এ জন্য ফসলের জমিতে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার, নদী-খাল-বিল ভরাট হওয়া, আবহাওয়ার পরিবর্তন ও স্থানীয় জলাশয়গুলো শুকিয়ে যাওয়াকেই দায়ী করছে মৎস্য বিভাগ।

কাজিপুরে দেশী মাছের বৃহৎ প্রজনন ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে যমুনা ও ইছামতি নদী চ্যানেল।ইতোমধ্যে এ অঞ্চল থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে পাবদা, সরপুঁটি, টেংরা, চান্দা, কৈ, শিং, মাগুর, বেলে, শৈল, গজার, বোয়াল, বাইন, রুই, কাতলা, চিতলসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। প্রয়োজনের চেয়ে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় স্বাদু পানির এসব মাছ নিম্ম আয়ের মানুষের ভাগ্যে আর জুটছে না। শুকনো মৌসুমে পানিশূন্য হয়ে যায়। প্রাকৃতিক জলাশয়ের সংকোচন, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার, এবং নির্বিচারে পোনা নিধনের ফলে বাংলাদেশের আড়াইশ’র বেশি দেশি প্রজাতির মাছ আজ বিলুপ্তির মুখে। এর মধ্যে পাবদা, পুঁটি, শিং, মাগুর, রাণী, মহাশোল ও বাঘাইরসহ অনেক ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে।
দেশি মাছ হারিয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ আবাসস্থল ধ্বংস: নদী, খাল, বিল ও জলাশয় শুকিয়ে ফেলা বা ভরাট করা।

কৃষিতে রাসায়নিক: জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে বৃষ্টির পানিতে তা জলাশয়ে মিশে মাছের প্রজননক্ষেত্র নষ্ট করা।
অতিরিক্ত মাছ শিকার: প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মা মাছ ও ছোট রেণু পোনা নির্বিচারে ধরা।
প্রাকৃতিক প্রবাহে বাধা: নদী ও বিলে বাঁধ বা ড্রেন তৈরি করায় মাছের চলাচল ও প্রজনন ব্যাহত হওয়া। সুরক্ষার উপায় জলাশয় ও প্রজননক্ষেত্র রক্ষা করা। প্রজনন মৌসুমে নির্দিষ্ট কিছু সময় মাছ ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা। কৃষিকাজে কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ও পদ্ধতি বাড়ানো।দেশি প্রজাতির মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও হ্যাচারি তৈরি করে চাষাবাদ বাড়ানো প্রাকৃতিকভাবে বংশ বিস্তার করতে না পারায় দেশী প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হিসেবে মো. হাসান মাহমুদুল হক বলেন, মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও অবৈধ জাল বিরোধী অভিযানে তিনি নদীমাতৃক এলাকায় মা ও পোনা মাছ নিধন রোধ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিয়মিত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন। মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তাঁর বক্তব্য ও পদক্ষেপ অবৈধ জাল অপসারণ: যমুনা নদী বা স্থানীয় জলাশয়ে কারেন্ট জাল কিংবা চায়না দুয়ারি জালের মতো নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আইন প্রয়োগ: মা ও পোনা মাছ রক্ষায় মৎস্য সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।জেলেদের ভূমিকা: কাজিপুর অঞ্চলে তালিকাভুক্ত জেলেদের সচেতন করার পাশাপাশি অবৈধ উপায়ে মাছ ধরা প্রতিহত করতে নজরদারি বজায় রাখা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button