বিনোদন

সম্পর্কে টানাপোড়েন! মৃত্যুর আগের রাতে সুশান্তের ফোন ধরেননি রিয়া

রিয়া চক্রবর্তী। সুশান্ত সিংহ রাজপুতের মৃত্যুর পর বারেবারেই উঠে আসছে এই বাঙালি কন্যার নাম। কিন্তু কেন? কে এই রিয়া? ঠিক কী সম্পর্ক ছিল রিয়ার সঙ্গে সুশান্তের? প্রেমিকা? নাকি শুধুই বন্ধু ছিলেন তিনি? ১৯৯২ সালে বেঙ্গালুরুতে জন্ম রিয়ার। পেশায় অভিনেত্রী রিয়ার বাবা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন। সৈনিক পরিবারে মানুষ। তাই রিয়ার ছোটবেলা কেটেছে ভারতের নানা প্রান্তে। পড়াশোনা করেছেন হরিয়ানার আম্বালার আর্মি পাবলিক স্কুলে। অভিনয়ে আসার ইচ্ছা ছিল ছোট থেকেই।
২০০৯ সালে এমটিভি আয়োজিত এক রিয়্যালিটি শো-তে বিজয়ী হয়েই বিনোদন জগতে হাতেখড়ি হয় তার। এরপর তেলুগু ছবি দিয়ে তার অভিনয় জীবনের শুরু। বলিউডে ব্রেক মেলে ২০১৩-তে। ছবির নাম ‘মেরে ড্যাড কি মারুতি’। ধীরে ধীরে ‘সোনালি কেবল’, ‘দোবারা’… বেশ কিছু হিন্দি ছবিতে অভিনয় করতে শুরু করেন রিয়া।
এই সময়েই পরিচালক মহেশ ভাটের সঙ্গে রিয়ার প্রেমের গুঞ্জন ছড়ায়। তোলপাড় হয় বলিউড। অসমবয়সী এই প্রেম নিয়ে সে সময় ভুরু কুঁচকেছিল গ্ল্যামার জগৎ। যদিও রিয়া বলেছিলেন, ‘প্রেমিক! ছিঃ! মহেশ স্যার আমার শিক্ষক।’
রিয়ার সঙ্গে সুশান্তের পরিচয় কী করে তা জানে না বলিউড। স্টারকিডের তকমা দু’জনেরই গায়ে ছিল না। তাই হয়তো আলাপ জমতে বেশি দেরি হয়নি। সেই আলাপ যে কখন প্রণয়ে পরিণত হয়ে তা আন্দাজ করতেই পারেনি বলিপাড়া।
চমক ভাঙে গত বছর জুনে রিয়া এবং সুশান্তের একসঙ্গে লাদাখ বেড়াতে যাওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর। যদিও লাদাখ থেকে একসঙ্গে ছবি তারা দেননি। প্রথমে ফ্যানেরা অতটা ঠাওর করতে না পারলেও দু’জনের একই সময়ে লাদাখ যাওয়াটা যে নেহাতই কাকতালীয় নয়, তা বুঝতে বাকি ছিল না কারও।
তার ঠিক কয়েক মাস পর, অক্টোবরের মাঝামাঝি চুপিচুপি প্যারিস পাড়ি দিয়েছিলেন রিয়া-সুশান্ত। খবর চাউর হতে বেশি সময় লাগেনি। তার পরেই জোর গুঞ্জন। মুখে ‘উই আর জাস্ট ফ্রেন্ডস’ বলে কাটিয়ে দিলেও সুশান্ত-রিয়ার প্রেম নিয়ে নিয়ে তখন নানা জল্পনা কল্পনা।
ওদের লাভ স্টোরি যেন মান্যতা পায় গত ২১ জানুয়ারি। সুশান্তের ৩৪ বছরের জন্মদিনে। তামাম দুনিয়াকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রায় খোলাখুলি সুশান্তের সঙ্গে প্রেমকে প্রকাশ্যে আনেন রিয়া। ইনস্টাতে দু’জনের ঘনিষ্ঠ ছবি পোস্ট করে রিয়া লেখেন, ‘মাই ক্রেজি ডায়মন্ড’। অতঃপর সম্পর্কে শিল মোহর। যদিও রিয়া বলেছিলেন, ‘ধুস, আমরা তো বন্ধুই। খুব ভাল বন্ধু।’
সব ভালোই চলছিল। এরই মধ্যে শোনা যায়, সম্পর্ক নাকি আগের মতো আর নেই তাদের। তাদের একসঙ্গে জনসমক্ষে শেষ দেখা গিয়েছেন গত ১১ মার্চ। জিম সেরে ফিরছিলেন তারা।
এর কয়েক দিন পরেই লকডাউন শুরু হয়ে যাওয়ায় সেভাবে আর লাইমলাইটে আসেনি রিয়া-সুশান্তের প্রেম। কিন্তু সুশান্তের মৃত্যুতে উঠছে নানা প্রশ্ন। বান্দ্রার ফ্ল্যাটে একা থাকতেন সুশান্ত। মা মারা গিয়েছেন কয়েক বছর আগে। বাবা রয়েছেন দেশের বাড়িতে। দিন দিন যে হতাশার অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছিলেন তার বিন্দুমাত্র আঁচও কেন পেতে দেননি রিয়াকে?
সত্যিই কি কথা বন্ধ করে দিয়েছিলেন ওরা দু’জন? আর ছিল না সম্পর্ক? তবে কেন মারা যাওয়ার আগের রাতে রাত ১টা ৪৭ মিনিটে রিয়াকে ফোন করেছিলেন সুশান্ত? ফোন অবশ্য ধরেননি রিয়া। কেন? খোঁজার চেষ্টা করেননি সুশান্তের মনের ক্ষত?
এত কেন’র উত্তর জানা নেই। আজ সুশান্তকে শেষবার দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন রিয়া চক্রবর্তী। শোনা যাচ্ছে, তার বয়ান রেকর্ড করবে মুম্বাই পুলিশ। এর পরেই হয়তো জট খুলতে পারে রহস্যের।
মাত্র ৩৪ বছরেই জীবন থেমে গেল সুশান্তের। তার জীবনের শেষ ভালোবাসা হয়ে রয়ে গেলেন বাঙালি মেয়ে রিয়া চক্রবর্তী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button