‘সব স্বৈরাচারী শাসকই নিজেদেরকে গণতান্ত্রিক বলে দাবি করেন’

গণ ফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সব স্বৈরাচারী শাসকই নিজেদেরকে গণতান্ত্রিক বলে দাবি করেন। কারণ স্বৈরাচারী বললে তো কারো সমর্থন পাওয়া যাবে না।
শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ( জেএসডি) আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার : প্রেক্ষিত ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় ড. কামাল এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের সেই মালিকান বজায় রাখতে হলে ভোটের আয়োজন করতে হবে। এসব করে কোনো স্বৈরাচার ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি। আমি কনফিডেন্টলি বলতে পারি, এই স্বৈরাচার সরকারও পারবে না।
ড. কামাল হোসেন বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন। আর নির্বাচন হলে যেন ভোট চুরি না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। যারা নির্বাচনকে অন্যদিকে প্রভাবিত করে সুশাসনের পরিবর্তে কুশাসন সৃষ্টি করতে চায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
দেশের সব মানুষ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এমন একটা লোক দেখান যে নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় না। যারা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাচ্ছে না তাদের স্থান পাবনায় হতে হবে।
ছাত্রনেতাদের উদ্দেশে কামাল হোসেন বলেন, তোমরা একবার সংবিধান দেখো। এই দেশের মালিক জনগণ। উত্তরসুরি হিসেবে কেউ না। বাঙালী যখন ন্যায্য দাবি নিয়ে লড়াই করে তখন তারা জয়ী হয়েছে, অপশক্তিরা পরাজিত হয়েছে।
তিনি বলেন, গোলটেবিল সমাবেশ করে দাবি আদায় হবে না। দাবি আদায় করতে হলে মাঠে নামতে হবে।
ড. কামাল বলেন, সরকারের দাবি একথা যদি ঠিক হয় তাহলে অবশ্যই সরকারকে ভোট দিবেন। দাবি ঠিক না হলে তাদের ভোট দিবেন না। জনগণ যদি ভোট দেওয়ার সুযোগ পায় তা হলে সরকারকে স্মরণীয় শিক্ষা দেবে জনগণ। আমার বিশ্বাস জনগণ খুবই সচেতন। তারা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সব বিষয়ে সচেতন থাকবে। কড়া নজর রাখবে। জনগণের হাত থেকে কোনো স্বৈরাচার রেহাই পায়নি।
সংবিধানের এই প্রণেতা বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। এসবের জন্য নতুন প্রজন্মকে তরুণদের কাজে লাগাতে হবে। এই তরুণ সমাজ দেশকে স্বাধীন করেছিল। তরুণদের এক্ষেত্রে অনেক কিছু করণীয় আছে। তরুণদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। ভোট দেওয়া বড় কথা না, ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়া বড় কথা। যাতে পেছন থেকে ব্যালট ছিঁড়ে বাক্সে ঢুকাতে না পারে।
ড. কামাল বলেন, আমরা চাই দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক। জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। মৌলিক বিষয় নিয়ে জাতীর ঐক্য গড়তে বিতর্ক হবে না। মাঠে নামতে হবে। সমাবেশ করে আমাদের কথাগুলো জনগণকে জানাতে হবে। ইনশ’আল্লাহ আমাদের জয় হবে। পূর্ব পশ্চিম।




