আফগান কৃষক জাহানতাব আহমাদি মাটিতে বসেছেন। কোলে ঘুমোচ্ছে তার ছোট্ট ছেলে খিজরান। সামনে খোলা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার খাতা। মন দিয়ে লিখে চলেছেন জাহানতাব। ছবিটি ক্যামেরাবন্দি করে ইন্টারনেটে পোস্ট করেছিলেন মধ্য আফগানিস্তানের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাসির খুসরৌ। আর সাথে সাথেই ভাইরাল হয়ে যায় ছবিটি।

A powerful photo of the mother of three Jahantab, taken by a professor at Nasir Khusraw private university in the central province of Daikundi this month while she was taking a university entrance exam, has gone viral — and sparked an outpouring of admiration and offers of financial help. / AFP PHOTO / WAKIL KOHSAR / TO GO WITH Afghanistan-education-university,FOCUS by Allison JACKSON and Mushtaq MOJADDIDI (Photo credit should read WAKIL KOHSAR/AFP/Getty Images)
যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে জাহানতাবের এই স্বপ্নপূরণের লড়াইকে স্যালুট করেছেন সবাই। যেমন, ছবির নিচে আফগান তরুণী নাজার হুসেন আকবরি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘তুমিই আসল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। তুমি দেখিয়ে দিয়েছ, হাজারা সম্প্রদায়ের মেয়েরা যেকোনো শর্তে, যেকোনো পরিস্থিতিতে এগিয়ে যেতে পারে।’
আরেক নেটিজেন আবার বলেছেন, ‘আশা করি এই পরিশ্রমী মহিলা নিজের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবেন।’
শুধু বাহবা দেয়াই নয়, তিন সন্তানের মা বছর পঁচিশের জাহানতাবকে আর্থিক সাহায্য করার কথাও ঘোষণা করেছেন অনেকে। তবে এ সবে ভেসে যেতে রাজি নন তিনি।

কাবুলের দাইকুন্দি প্রদেশের প্রত্যন্ত গ্রামে ভুট্টা ও আলু চাষ করে সংসার চালানো জাহানতাব বলছেন, ‘আমি আমার হকের শিক্ষাটুকু থেকে বঞ্চিত হতে চাই না। আমি বাড়ির বাইরে গিয়ে কাজ করতে চাই। চিকিৎসক হতে চাই। আমার সম্প্রদায়, আমার সমাজের মেয়েদের জন্য কাজ করতে চাই।’
পরীক্ষায় যদিও ইতিমধ্যেই পাশ করে গিয়েছেন জাহানতাব। তবে, বাড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তাটা মোটেই মসৃণ ছিল না তার কাছে। দাইকুন্দি প্রদেশের রাজধানী শহর নিল্লি পৌঁছাতে প্রথমে দুই ঘণ্টা পায়ে হেঁটে পাহাড় ডিঙোতে হত। তারপর নয় ঘণ্টা বাসে চেপে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতেন জাহানতাব।
সারা বিশ্বের নজর যখন তার দিকে, তখন জাহানতাব স্বয়ং একটু লজ্জিতই বোধ করছেন। তার ছবি এত প্রশংসা পাচ্ছে শুনে লাজুক মুখে বললেন, ‘আমি তো জানতামই না। গ্রামের এক বান্ধবী প্রথম আমাকে বলল। আমি বললাম, আমাকে না জানিয়ে কেউ কী করে আমার ছবি তুলতে পারে? তখন ও বলল, আমি পরীক্ষার খাতায় মনোযোগ দিয়েছিলাম বলেই ছবি তোলার ব্যাপারটা খেয়াল করতে পারিনি।’

পরীক্ষার হলে সবাই চেয়ারে কিন্তু আপনি নিচে বসেছিলেন কেন? হেসে জাহানতাব জানালেন, ছোট্ট খিজরান কানের ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছিল। এক নাগাড়ে কেঁদে চলেছিল। অন্যদের যাতে অসুবিধা না হয়, তাই তিনি নিজেই একটু আড়াল হয়ে মেঝেতে বসেছিলেন।
ইতোমধ্যেই একটি অনলাইন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে জাহানতাবের পড়াশোনার জন্য প্রায় ১৪ হাজার ডলার জোগাড় করে ফেলেছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আফগান ইউথ অ্যাসোসিয়েশন। পাশাপাশি, সেদেশের বিশিষ্ট সমাজকর্মী জাহরা ইয়াগনা স্বয়ং যোগাযোগ করেছেন জাহানতাবের সাথে। তাকে কাবুলে এসে পড়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। এএফপি ।




