
আগামী দিনে জীবন-যাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠবে যন্ত্রমানব রোবট। এখন থেকেই সতর্ক না হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সমৃদ্ধ রোবট যদি অপরাধ তৎপরতায় জড়িয়ে পড়ে তাহলে তা ঠেকানোর ক্ষমতা পুলিশের থাকবে না। নতুন এক সমীক্ষায় আগাম এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।
‘ভ্যানডারবিল্ট জার্নাল অব এন্টারটেইনমেন্ট ল’ সাময়িকীতে এ সমীক্ষা প্রকাশিত হয়েছে। এতে রোবটের আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে আলোচনা করেছেন আমেরিকার সিয়াটেলের দ্যা অ্যালান ইন্সটিটিউট ফর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের শিক্ষাবিদ ও গবেষক অ্যামিটাই ইটজিওনি এবং ওরেন ইটজিওনি।
তারা বলেন, রোবটের আইন ভাঙার প্রবণতা নিয়ে কথা উঠলে তাকে নিছক কেতাবি সমস্যা হিসেবে ধরে নেয়া মোটেও ঠিক হবে না। এ সমীক্ষায় চালকহীন গাড়িতে রোবট ব্যবহারের কথা তুলে ধরে বলা হয়েছে, পথে চলতে চলতে শেখার অবকাশ রাখা হয়েছে এতে। ফলে কোনো রকম বিপদ-আপদ না ঘটিয়েই অল্প পরিমাণ গতিসীমা অতিক্রম করতে পারে এসব গাড়ি। আর এভাবে ধাপে ধাপে গতিসীমার মারাত্মক লঙ্ঘন ঘটতেই পারে। পরিণামে, চালকহীন গাড়ি ডেকে আনতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা।
একইভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ধীরে ধীরে বিপথগামী হতে পারে। চৌকস যন্ত্র বা যন্ত্রমানব তাদের নির্মাতার দেয়া দিকনির্দেশনা অতিক্রম করার বিদ্যা নিজেরাই অর্জন করতে পারবে বলে গবেষকরা মনে করেন।
রোবট যেন সীমা অতিক্রম করতে না পারে সেজন্য এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক অভিভাবক নিয়োগের সুপারিশ করেন এই দুই গবেষক। যন্ত্র বা যন্ত্রমানবের তৎপরতার ওপর নজর রাখার দায়িত্ব বর্তাবে এ ধরনের অভিভাবকের ওপর। এ ছাড়া, যন্ত্রের কাজ থামানোর জন্য সহজে দৃষ্টিগ্রাহ্য সুইচ রাখার সুপারিশও করেছেন তারা। এতে জরুরি প্রয়োজনে সুইচ টিপে যন্ত্রকে অচল করে দেয়া যাবে।
এসব করা না হলে যন্ত্র মানুষ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। তাকে কোনোভাবেই আর আইন মেনে চলতে বাধ্য করতে পারবে না মানুষ। পার্স টুডে



