শিরোনাম

শেরপুরে পেঁয়াজের দাম আবারো বাড়ছে

শেরপুর বগুড়া প্রতনিধিি : বগুড়ার শেরপুরে বাজার মনিটরিং এর তৎপরতা না থাকায় আবারো পুরাতন-নতুন সব ধরনের পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর কারণ হিসাবে বাজারে পেঁয়াজের সংকটকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ক্রেতারা হিমশিম খাচ্ছে পেঁয়াজ কিনতে।
সোমবার সকালে শেরপুর পৌর শহরের বারদুয়ারী হাটে গিয়ে দেখা গেছে, পুরাতন দেশী পেঁয়াজ পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ২’ শ টাকা থেকে ২’ শ ১০টাকা দরে। খুচরা বাজারে তা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ২’শ ২০ টাকা থেকে ২’শ ৩০ টাকা দরে। অন্যদিকে মুড়িকাটা নতুন দেশী ঁেপয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১’ শ ৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা দরে। খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। আর নতুন ঁেপয়াজ ডাঁটাসহ বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি দরে। যা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১’ শ টাকা থেকে ১’ শ ১০ টাকা দরে।
পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা জানান, আড়তে পেঁয়াজের সংকট থাকায় চাহিদামত পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বিগত হাটের তুলনায় এই হাটে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০-৫০টাকা বেড়েছে।
ক্রেতারা জানান, পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ না থাকায় দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সময়ে পেঁয়াজের দাম কেন বৃদ্ধি পাচ্ছে তা আমরা বুঝতে পারছি না।
এ ব্যাপারে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ বলেন, কোন ব্যবসায়ি কৃত্তিম সংকট দেখিয়ে পেঁয়াজের দাম বেশী নেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেরপুরে বেশি দামে লবণ কিনে আফসোস

লবণের দাম বেড়ে গেছে- দেশজুড়ে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর গত মঙ্গলবার বিভ্রান্ত হয়ে যারা বেশি দামে লবণ কিনেছিলেন, তারা এখন আফসোস করছেন। সেই সঙ্গে আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হয়েছেন তারা। দাম বেড়ে যাওয়ার গুজব ছড়ানোর পর লবণ কিনতে লোকজন দোকানে ভিড় করেন। অনেক দোকানে লম্বা লাইন দেখা যায়। আর এই সুযোগে বেশি দামে লবণ বিক্রি করেন অনেক দোকানী। শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত আলী সেখ ও পুলিশ প্রশাসনের প্রচেষ্ঠায় দ্রæত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বেশ কয়েকজনকে জরিমানা করেন।
দাম বাড়ার আশঙ্কার গুজবে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় অনেককে বাড়তি লবণ কিনতে দেখা যায়। তবে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ব্যবসায়ীদের তৎপরতায় লবণের দাম আবার স্বাভাবিক হয়ে আসে। কিন্তু বেশি দামে যারা বাড়তি লবণ কিনেছেন, এখন তারা আফসোস করছেন। এত লবণ এখন কী করবেন, তা নিয়ে তাদের মধ্যে ভাবনা তৈরি হয়েছে। গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে যারা বেশি দামে বাড়তি লবণ ক্রয় করেন, তাদের একজন উপজেলার হামছায়াপুর এলাকার আনোয়ার হোসেন জানান, দাম বাড়ার আশঙ্কায় মঙ্গলবার বিকেলে তড়িঘড়ি করে ২বস্তা হোটেলের জন্য ১’ শ কেজি লবণ কেনেন। এতে প্রতি কেজি লবণে তাকে ১৪ টাকা বেশি গুণতে হয়।
হেলাল, হান্নান জানান, ‘বেশি দামে বাড়তি লবণ কিনে আমি বোকামি করেছি। পেঁয়াজের মতো লবণের দাম বাড়তে পারে, এমন কথা শোনার পর আমি আগামী তিন-চার মাসের লবণ একবারে কিনে ফেলি। কিন্তু রাতে দেখি লবণের দাম স্বাভাবিক হয়ে গেছে। এখন চিন্তা করছি এত লবণ দিয়ে কী করব।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত আলী সেখ বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে লবণ কিনলে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এটি যে গুজব ছিল সেটি সবাই এখন বুঝতে পেরেছে।
এরপরও গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে কেউ কেউ লবণ কিনেছেন। এটি নিশ্চয়ই বোকামি হয়ে গেছে।’ ১৯ ও ২০ নভেম্বর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশি দামে লবণ বিক্রয় করায় ১০জনকে মোট ৮৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button