slider

“লাম্পি স্কিন” রোগে মারা যাচ্ছে গরু, ক্ষতির মুখে চরাঞ্চলের কৃষক

নাসির উদ্দিন, হরিরামপুর প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জ হরিরামপুর চরাঞ্চল লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নে নটাখোলা গ্রামে লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে হরিররামপুর চরাঞ্চল হরিরামপুর মুলভুমিতে বেশ কয়েকটি মারা গেছে। আরো আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৫০ অধিক ।

হরিরামপুর উপজেলা নটাখোলা গ্রামে তোতা খাঁ কৃষককের এক রাতের মধ্যে পর ৩টি স্থানীয় জাতের গরু মারা যায়। যার আনুমানিক বাজার মুল্য আড়াই লক্ষাধিক টাকা। নটাখোলা গ্রামে কৃষক তোতা খা জানান আমার বাড়িতে ১০টি দেশি জাতের গরু রয়েছে । সুস্থ স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিনের মত খাবার খেয়ে রাতে গোয়ালে রাখা হয়। কিন্তু হঠাৎ কিছু বুঝে উঠার আগেই। গরুর শরীরে গুটি গুটি হয়ে সারা শরীর ফুলে উঠে। গরু খাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং স্বাভাবিক জাবর কাটা বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় পশু চিকিৎসক পরামর্শ ঔষুধ খাওয়ালে কোন কাজ হয় না। রাতের মধ্যে ২টি এবং পরের দিনে ১টি এই তিনটি গরু মারা যায় আরো ২টি এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

এ ছাড়াও লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের নটাখোলা পাটগ্রামচর গঙ্গাধরদি এবং চালা ইউনিয়নের লাওতা গ্রামে আরো কয়েকজন কৃষকের গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
অপর দিকে নটাখোলা গ্রামের কৃষক আক্কাস আলী জানান আমি চকের ভুট্রা ক্ষেত থেকে ঘাস কেটে এনে গরুকে খাওয়ানোর সাথে সাথে ২০মিনিটের মধ্যে আমার ২টি গরু মারা যায়।

এই বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে যোগাযোগ করলে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ জহুরুল ইসলাম বলেন, এটা একটা ভাইরাস জনিত রোগ আগে থেকেই এর ভ্যাকসিন দিতে হয়। বিশেষ করে ছোট গরু আক্রান্ত হলে বেশি মারা যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাছাড়াও ক্ষেত থেকে যে ঘাস নেপিয়ার বা অন্যান্য খাদ্য গরুকে খাইয়াছে তাতে কোন ধরনের রাসায়নিক বিষ বা অন্য কোন জীবানু আছে কিনা বিষয়টা দেখা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, মাঠ আমাদের কর্মী আছে তাদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। এই বিষয়ে আমরা সহযোগিতা করবো।

হরিরামপুর উপজেলা চরাঞ্চল কৃষি ভিত্তিক পরিবার। আর কৃষির উপর নির্ভরকরেই এই অঞ্চলের মানুষ জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। চরের প্রতিটি পরিবারে গরু পালনের মধ্যে দিয়ে এলাকার কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়। চরের প্রতিটি পরিবারে ৫-২৫টি পর্যন্ত গরু রয়েছে। তাছাড়াও ছাগল, ভেড়া, ঘোড়া, মহিষ পালন করে থাকে। আর এই সকল প্রাণীর খাবার এলাকার কৃষকরা মাঠ থেকে সংগ্রহ করে গরু ছাগলকে খাবার দেয়। কিন্তু বর্তমানে ফসল উৎপাদনে বেশি পরিমানে রাসায়নিক সার বিষ কীটনাশক ব্যবহার ফলে চকের গরু বাছুরের খাদ্য বিষক্রিয়া পরিনিতি হয়েছে কিনা বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় আনা প্রয়োজন। ফলে এলাকার কৃষক প্রাণী সম্পদের চকেপাথারের খাদ্য নিয়ে সংশয়ভাবে দিন পার করছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button