
বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য নেয়া ঘুষ এলাকাবাসীর চাপে ফেরত দিলেন ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এলাকা-৭ এর পরিচালক নুরুজ্জামান। তাদের কাছ থেকে মোট এক লাখ ৩৮ হাজার ১০০ টাকা ঘুষ নিলেও কয়েক বছরেও বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারেননি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে হাকিমপুর ইউপির খুলুমবাড়িয়ায় পৃথক দুটি স্থানে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘুষের টাকা ফেরত দেয়া হয়। গ্রাহকরা লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের টাকা বুঝে নেন। এ সময় ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. আলতাফ হোসেন, উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কামরুজ্জামান, সমিতি বোর্ডের সভাপতি হাফিজুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী মোতাহার হোসেন, সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (সদস্য সেবা) মো রেজাউল করিম রাজিব উপস্থিত ছিলেন।
টাকা বুঝে পাওয়া এক গ্রাহক আকামদ্দিন বলেন, ‘চার বছর আগে আমাগো গ্রামে বিদ্যুতের কথা কইয়া ট্যাকা নিছিলো। আমিও পাঁচ হাজার ট্যাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু বিদ্যুৎ আর দেয় নাই। চার বছর পর শুনলাম মিছা কতা কইয়া ট্যাকা নিছিলো। তবে এহন ধরা খাইয়া আমগো ট্যাকা ফেরত দিতে বাধ্য হইছে। আমি আমার ট্যাকা বুইঝা পাইছি।’
আরেক গ্রাহক জোসনা সরকার বলেন, ‘আমার বাড়িত বিদ্যুৎ দেয়ার নাম কইরা চাইর হাজার ট্যাকা নিছিলো। আইজ আমি সেই ট্যাকা ফেতর পাইছি।’
এ বিষয়ে প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন বলেন, ‘শৈলকুপার বিভিন্ন গ্রামে বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এ সুযোগে ওই এলাকার এক শ্রেণির দালালচক্র বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কথা বলে গ্রামবাসীদের কাছ থেকে বেআইনিভাবে টাকা আদায় করে আসছে। পরে হাকিমপুর ইউপির খুলুমবাড়িয়া গ্রামে গোপন অনুসন্ধান চালানো হয়। কয়েক দিনের অনুসন্ধানে এ খবরের সত্যতা বেরিয়ে আসে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শৈলকুপা ৭ নম্বর এলাকা পরিচালক নুরুজ্জামানের নাম বেরিয়ে আসে। বিদ্যুৎ মিটারসহ বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা লেনদেনের তথ্যও অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে। এতে দেড় শতাধিক হতদরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায় করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়। পরে এ টাকা কৌশলে ঘুষ গ্রহীতার কাছ থেকে আদায় করে গ্রাহকদের ফেরত দেয়ার পরিকল্পনা করেন তারা। গ্রাহকরা খবর পেয়ে এলাকায় জড়ো হন। লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা ফেরত নেয়ার জন্য অপেক্ষা করেন গ্রামবাসীরা। এ সময় ঘুষ গ্রহীতা এলাকা-৭ এর পরিচালক নুরুজ্জামান নিজে গ্রাহকদের হাতে সেই টাকা তুলে দেন।’
ওই দিন দুর্নীতি বিরোধী ব্যানার ঝুলিয়ে ১২৬ পরিবারকে এক লাখ ৩৮ হাজার ১০০ ঘুষের টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।



