Uncategorized

রাজারহাটে বাবা ও সৎমায়ের সহযোগিতায় ছেলে খুন

রাজারহাট ( কুড়িগ্রাম ) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের রাজারহাটে পারিবারিক কলহের জেড়ে পিতার লাঠির আঘাতে পূত্র আহসান হাবীব সানু (৩৬) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রাজারহাট সদর ইউনিয়ন এর চান্দামারী ঝাকুয়াপারা গ্রামে।
গুরুতর আহত সানু শুক্রবার (১ লা মে) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুপুর ১ টা ৪০ ঘটিকায় মারা যান। এ ঘটনায় পলাতক রয়েছে পিতা ও সৎমা।নিহত যুবক চাঁন্দামারী উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন কৃষি বিষয়ক শিক্ষক। মৃত্যুর সময় ৬ মাসের একটি কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। স্থানীয়রা জানান, আহসান হাবীব সানু’র মা মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই সৎ মায়ের সাথে তাদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে কলহ বিবাদ ও মনোমালিন্য চলিয়া আসিতেছে। এছাড়াও পারিবারিক ভাবে আহসান হাবীব সানুর মৃত মা আম্বিয়া ক্বওমী মাদ্রাসা’র তৈরী নিয়েও ছিল তাদের মধ্যে কোন্দল। ওই মাদ্রাসা সানু তার মৃত মায়ের নামে করতে চেয়ে ছিলো। সানুর বাবা প্রথমে মত দিলেও পরে মাদ্রাসা তৈরীতে বাধা প্রদান করেন। গত সপ্তাহে আহসান হাবীব সানুর সাথে তার সৎমাতা লাকি বেগমের কথাকাটাকাটি হয়। এনিয়ে রাগ করে বাপের বাড়ি চলে যান লাকি বেগম। এই কলহ মেটাতে বৃহস্পতিবার (৩০-৪-২০) সকালে ১০:৩০ মিনিটে নিহতের পিতা আব্দুল হাই ঝুনু, চাচা বাচ্চু মিয়া, চাচাতো ভাই মাহবুরসহ বাড়ির উঠোনে বৈঠক চলছিল। এরই এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে পিতা আব্দুল হাই ঝুনু ও তার আত্মীয়রা লাঠি দিয়ে আহসান হাবীব সানুর উপর ঝাঁপিয়ে পরে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছিলা ফোলা জখম করে ও মাথায় আঘাত করে । এসময় সানু’র স্ত্রী নিপা এগিয়ে এলে তাকেও মারধোর করা হয়। বেধড়ক মারপীটে আহসান হাবীব সানু গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পরলে তাকে প্রথমে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বৃহস্পতিবার বিকেলেই উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুর ১ :৩০মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ কৃঞ্চ কুমার সরকার জানান, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীনে রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button