রাজাপুরে বিদ্যালয়ে জনবল নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ

মোঃশাহাদাত হোসেন মনু,ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ‘শুক্তাগড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে’ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জনবল নিয়োগের পাতানো নিযোগ পরীক্ষার কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছেন রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মোক্তার হোসেন।
এ নিয়োগ কার্যক্রম বাতিল করে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার দাবিতে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দীনেশ চন্দ্র মজুমদারকে আহŸায়ক, বন সংরক্সণ কর্মকর্তা মো.আলমগীর হোসেন ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানকে সদস্য কওে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
মঙ্গলবার (০৭-১২-২১ইং) সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে তদন্ত কার্যক্রমের স্বাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। এতে তদন্ত কমিটি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক গড়মিল পায় বলে সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয়দের দেয়া অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানাগেছে, ২০১৬ সালে গোপন নিয়োগের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বপালন শুরু করেন নুর আলম মল্লিক। বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ওই প্রধান শিক্ষকের ফুফাতো ভাই কামরুল ইসলাম। তারা দু’জনে মিলে বিদ্যালয়ের শুন্য পদে অফিস সহকারী,সৃষ্ট পদে নৈশ পহরী ও আয়া পদে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে প্রকাশিত অপ্রচলিত একটি দৈনিক ও ঝালকাঠি থেকে প্রকাশিত স্থানীয় দৈনিকে ৩টি পদে জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে গোপনে অফিস সহকারী পদে নিয়োগের কার্যক্রম সম্পন্ন কওে এবং আয়া ও নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগের জন্য ২টি পদের বিপরীতে ৪টি করে ৮টি আবেদন জমা ও বৈধ দেখায়। কিন্তু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সরকারী বিধি মোতাবেক উল্লেখ করা হলেও কোন বিধিতে কি কি উল্লেখ আছে তার কোন নির্দেশনা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ
বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করেনি।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি’র বিধি মোতাবেক বহুল প্রচারের স্বার্থে জেলা শিক্ষাঅফিস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তিটি সাঁটানোর শর্তে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনুমতি দেন জেলা শিক্ষা অফিসার মো. সিদ্দিকুর রহমান। কিন্তু কোথাও কোন বিজ্ঞপ্তি না সাঁটিয়ে ২৯ অক্টোবর ঝালকাঠি সরকারী হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ে পাতানো নিয়োগ পরীক্ষা দেখানোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি অবহিত হয়ে নিয়োগ পরীক্ষার সার্বিক কার্যক্রম তাৎক্ষণিক স্থগিত করেন রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোক্তার হোসেন।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কোথাও কোন নোটিশ না দেয়ায় প্রশাসনিক চাপ ও জনরোষ এড়াতে ২ নভেম্বর শুধুমাত্র বিদ্যালয়ের জানালায় হাতে লেখা একটি কাগজে বিজ্ঞপ্তি সাঁটানো হয়। লুকোচুরির মাধ্যমে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহি মূলক যোগ্যতার ভিত্তিতে রাজাপুর জনবল নিয়োগের দাবীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দায়ের করে এলাকাবাসি ।
তদন্তকালে কমিটির আহŸায়ক উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা দীনেশ চন্দ্র মজুমদার, সদস্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানসহ এলাকাবাসী, শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য সোহরাব হোসেন তদন্ত কমিটিকে জানান, এভাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া ঠিক হয়নি। আরো ভালোভাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়্ াউচিত ছিলো।
ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আরো কয়েকজনে জানান, খাতা নিয়ে আমাদের কাছে গেলে আমরা স্বাক্ষর করে দেই। কিসে স্বাক্ষর করেছি তাও দেখতে পাই না। সরল বিশ^াসে এমন কাজটি আমাদের দিয়ে করানো হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরে আলম মল্লিক জানান, যথাযথ নিয়ম মেনেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কার্যক্রম করা হয়েছে। একটি মহল স্বচ্ছতার নামে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিনিধি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল বাশার তালুকদার জানান, সভাপতি অসুস্থ থাকায় তিনি আসতে না পারায় নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়নি।
মহাপরিচালক প্রতিনিধি ও ঝালকাঠি সরকারী হরচন্দ্র উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা আরজু জানান, আমি অসুস্থ ছিলাম। আর এমনিতেও এসব নিয়োগ বোর্ডের সদস্য থাকা আমার ভালো লাগে না। কোন দিকে কে কিভাবে নিয়োগ দেয় সেখানে আমাদের রাখে শুধু স্বাক্ষরের জন্য। জেলা শিক্ষা অফিসারকে বলেছি আমাকে এসব দায়িত্ব আর না দিতে।
ঝালকাঠি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান,আমাদের কাছে আসলে আমরা নিয়োগের যথোপযুক্ত কাগজপত্র দেখলে নিয়োগ বজ্ঞিপ্তির জন্য ছাড়পত্র দেই। তখন শর্ত দেয়া থাকে আমাদের অফিসের নোটিশ বোর্ডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সাঁটানোর। আমরা শুধুই ছাড়পত্র দেয়া এবং নিয়োগ বোর্ড পরিচালনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ডিজির প্রতিনিধি নিয়োগের কাগজ কলমে দায়িত্ব পালন করে থাকি। নিয়োগ পালন না করলে আমাদের হাতে আর কিছু করার থাকে না।
তদন্ত কমিটির আহŸায়ক ও উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. দীনেশ চন্দ্র মজুমদার জানান, আমরা আনুষ্ঠানিকবাবে তদন্ত শুরু করেছি। আমাদের তদন্ত কাজ এখনও শেষ হয়নি। তদন্তে যেটা প্রমাণিত হবে সে অনুযায়ী প্রতিবেদন দেয়া হবে।




