
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক প্রতিবেদন বলছে, রাজনৈতিক সৎ ইচ্ছার অভাবে সরকারি জনপ্রশাসনে শুদ্ধাচার চর্চার সঠিক বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এ কারণে দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন, জবাবদিহিতা তৈরি হচ্ছে না ।
রোববার (২৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় ধানমন্ডিতে মাইডাস সেন্টারে ‘জনপ্রশাসনে শুদ্ধাচার : নীতি এবং চর্চা’ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করে টিআইবি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জনপ্রশাসনে শুদ্ধাচারের অবস্থাটি মোটামুটি মিশ্র। কিছু ক্ষেত্রে লক্ষণীয় অগ্রগতি আছে। কিছু কিছু উদ্যোগ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে। আবার কিছু কিছু উদ্যোগ শুরুই হয়নি। তিনি সরকারি কর্মচারী আইনে গ্রেপ্তার সম্পর্কিত একটি ধারার সমালোচনা করে বলেন, এই ধারাটি দুর্নীতি প্রতিরোধে বাধার সৃষ্টি করবে। তাই তাঁরা এই ধারাটি বাতিল করে আইনের সংশোধন চান।
এ সময় সরকারি কর্মচারীর (আচরণ) বিধি, নিয়োগ, পদোন্নতিসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে টিআইবির সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
সুপারিশগুলো হলো-
* সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধি, ১৯৭৯-কে শুদ্ধাচার কৌশলের আলোকে হালনাগাদ করতে হবে। আয়কর প্রদানের বাইরে সরকারি কর্মকর্তা কর্তৃক সম্পদের হিসাব প্রদানের জন্য সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল কাঠামো তৈরি করতে হবে এবং সে অনুযায়ী সম্পদের হিসাব প্রতিবছর নিশ্চিত করতে হবে।
* সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-তে সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তার করতে সরকারের অনুমতি রাখার বিধান বাতিল করতে হবে এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ধারা, যেমন ৬(১) ও ৪৫ সংশোধন করতে হবে।
* সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-তে সরকারি শব্দটির পরিবর্তে প্রজাতন্ত্র শব্দটি ব্যবহার করে আইনের সংশোধন করতে হবে।
* জনপ্রশাসনের ওপরের পদগুলোতে শূন্যপদের বিপরীতে অতিরিক্ত নিয়োগ না দিয়ে নিচের দিকের শূন্যপদগুলো পূরণ করতে হবে, যেন প্রশাসনের পিরামিড ঠিক থাকে।
* পদোন্নতির ক্ষেত্রে সব ক্যাডারের সমান সুযোগ সৃষ্টি ও সকল ক্যাডারের জন্য পদভেদে অভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ করে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসনের উদ্যোগ নিতে হবে।
* প্রশাসন ক্যাডার হতে টেকনিক্যাল বিভাগের উচ্চপদে পদায়ন না করে টেকনিক্যাল ক্যাডার থেকে পদোন্নতি নিতে হবে।
* প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের প্রশিক্ষণে প্রাপ্ত স্কোর এবং দক্ষতার মূল্যায়নপূর্বক পদোন্নতি নিশ্চিতের বিধান রাখতে হবে।
পূর্বপশ্চিমবিডি


