আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভে যোগ দিলেন ডাক্তার-নার্সরাও

পুলিশ হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যার পর বর্ণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে তাতে যোগ দিয়েছেন করোনা লড়াইয়ে সামনের সারির সৈনিক ডাক্তার-নার্সরাও। তাদের ভাষায়, বৈষম্যের বিরুদ্ধে এসব আন্দোলনকারীরাই এখন প্রকৃত বীর।
মাস্ক, হাসপাতালের পোশাক ও অন্যান্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা পোশাক পরে প্রায় একশোর মতো ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীকে বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের বিলেভু হাসপাতালের বাইরে স্বল্প সময়ের জন্য বিক্ষোভে অংশ নেন।
তাদের হাতের প্লেকার্ডে ছিল ‘স্বাস্থ্য সেবা সবার জন্যই’, ‘বর্ণবাদ আমার রোগীকে মেরে ফলছে’ প্রভৃতি স্লোগান।
কামিনি দুবে নামে এক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, “আমরা সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সেবা দেওয়া শপথ দিয়েছি। আমরা জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার শপথ নিয়েছি। অত্যধিক শক্তি প্রয়োগ ও পুলিশি অত্যাচারের ফলে জনস্বাস্থ্য হুমকিতে পড়ছে।”
দুবে বেলেভু হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একজন চিকিৎসক। নিউ ইয়র্ক জুড়ে ছয়টি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে প্রতিবাদ মিছিলের অন্যতম আয়োজক তিনি।
বিলে জিন নামে কৃষ্ণাঙ্গ এক নার্স বলেন, “স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে আমি এখন কভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াই করছি। সেই সঙ্গে বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধেও লড়াই চালিয়ে যাব আমি।”
করোনায় পর্যুদস্ত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অন্যতম নিউ ইয়র্ক। শুধু নিউ ইয়র্ক শহরেই এই ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২১ হাজার মানুষের। তাতেও বর্ণবৈষম্যের আঁচ পাওয়া যায়।
আক্রান্ত-মৃতদের অধিকাংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর। সরকারি হিসেবে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে যেসব মানুষের মৃত্যু হচ্ছে তাদের ২৩ শতাংশই কৃষ্ণাঙ্গ।
অথচ, দেশটির মোট জনসংখ্যার মাত্র ১৩.৪ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ। নিউ ইয়র্কে করোনায় আক্রান্ত মৃত শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় দ্বিগুণ হারে মারা যাচ্ছেন কৃষ্ণাঙ্গরা।
স্বাস্থ্য কর্মীরা বলছেন, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার অভাব মানেই সুবিধাবঞ্চিতরা সম্পদশালীদের তুলনায় যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছে না।
২৮ বছর বয়সী ডাক্তার দামিলোলা ইদোউ বলেন, “আমরা দেখি কৃষ্ণাঙ্গরা দীর্ঘমেয়াদি রোগে বেশি মরছে। পর্যাপ্ত ফলোআপ চিকিৎসা হচ্ছে না। আমরা এসব কমিউনিটিতে ভয়াবহ সংঘাতে আহতের ঘটনাও দেখছি।”
“কৃষ্ণাঙ্গদের গুলির জখম নিয়ে আসতে দেখা যায়। অবশ্যই পুলিশের নিষ্ঠুরতার জন্য এমন হচ্ছে। আমরা সবাই তাই দেখছি।”
এর আগে গত মঙ্গলবার মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের অনেক ডাক্তার ও নার্স বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে নিউ ইয়র্কের ফিফথ অ্যাভিনিউতে মিছিল বের করে। স্বাস্থ্যকর্মীদের একই ধরনের প্রতিবাদ মিছিল বের করেছে হিউস্টন ও ওয়াশিংটন ডিসিসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শহরেও।
বিক্ষোভকারীদের এমন আন্দোলনে খুশি ডাক্তার-নার্সরা। আন্দোলনকারীদের ‘ধন্যবাদ!’ ‘আমরা তোমাদের ভালোবাসি’ স্লোগান ধরতেও দেখা গেছে তাদের।
ডাক্তার ইদোউ বলেন, “বৈষম্যের বিষয়গুলো আন্দোলনকারীরা তুলে ধরেছে। ঝুঁকির মধ্যেও তারা তাদের শরীর পেতে দিয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর ঝুঁকি নিচ্ছে। তারাই এখন আসল বীর।”
“তাই তাদের পাশে দাঁড়ানোটা আমাদের জন্য যথার্থ। আমরা যেভাবে কভিড-১৯ এর সঙ্গে লড়াই করছি সেভাবেই তাদেরকে উৎসাহিত করা দরকার।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button