আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের বিরুদ্ধে একজোট চীন-রাশিয়া

রাশিয়া ও চীন বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে এমনভাবে ঢেলে সাজানোর প্রত্যয় জানিয়েছে যাতে করে যুক্তরাষ্ট্র আর অন্য কোনো দেশের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে না পারে। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরাম- এসপিআইএফই’র অবকাশে জ্বালানি বিষয়ক আলাদা একটি ফোরামে অংশ নিয়ে এ সংকল্প ব্যক্ত করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
প্রেসিডেন্ট পুতিন ও জিনপিং বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বিদ্যমান বৈষম্যের সমালোচনা করে বলেন, এই ব্যবস্থা ভেঙে দেয়ার লক্ষ্যে বেইজিং ও মস্কো নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা শক্তিশালী করবে।
পুতিন বলেন, ওয়াশিংটন পুরো বিশ্বের ওপর তার আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিশ্ববাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ভূমিকা খর্ব করতেই হবে।
এ সময় চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রুশ প্রেসিডেন্টের বক্তব্য সমর্থন করে বলেন, বিশ্ববাণিজ্যে বিদ্যমান ‘বৈষম্য’ কাটিয়ে ওঠা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন জাতি উন্নত জীবনযাপনের লক্ষ্যে যেভাবে জেগে উঠেছে তাদের সে আকাক্সক্ষাকে আর দমিয়ে রাখা যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মার্কিন সরকার ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপের দায়ে রাশিয়াকে অভিযুক্ত করে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একই সাথে চীনের সাথে কঠিন বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ ছাড়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরোধী দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।
হুয়াওয়ে ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা
এ ছাড়া চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়েকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী নীতির কঠোর সমালোচনা করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বলেছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল বাণিজ্য যুদ্ধই নয়, বিশ্বকে সত্যিকারের যুদ্ধের দিকেও ঠেলে দিতে পারে।
তার এ বক্তব্যকে চীন ও রাশিয়ার মধ্যে ‘চমৎকার সম্পর্কের’ নজির হিসেবেই দেখা হচ্ছে। পুতিন বলেন, ‘হুয়াওয়ের উদাহরণটাই দেখুন। তারা কেবল প্রতিষ্ঠানটিকে সঙ্কুচিত করারই চেষ্টা চালাচ্ছে না, চেষ্টা করছে একে বিশ্ববাজার থেকে হটিয়ে দিতে। কিছু কিছু অঙ্গনে এরই মধ্যে একে ডিজিটাল যুগের প্রথম প্রযুক্তিযুদ্ধ হিসেবেও ডাকা শুরু হয়েছে।’ পুতিন এ ধরনের ‘আগ্রসী আচরণের’ ফলাফল নিয়েও সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটা অনিঃশেষ সঙ্ঘাত ও বাণিজ্যযুদ্ধের পথ। সম্ভবত এটি কেবল বাণিজ্যযুদ্ধেই থেমে থাকবে না। সত্যি করে বললে, এই পথ নিয়মনীতি বহির্ভূত এমন একটি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে যেখানে সবাই সবার বিরুদ্ধে লড়বে।’
হুয়াওয়ের প্রযুক্তিকে চীন বিশ্বজুড়ে নজরদারি চালানোর কাজে ব্যবহার করতে পারে এমন উদ্বেগ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশকে চীনা এ টেলিকম জায়ান্টকে বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে। হুয়াওয়ে শুরু থেকেই চীনা সরকারের সাথে যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করে তাদের সরঞ্জামে নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে দাবি করে আসছে।
সূত্র : এএফপি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button