আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র আইন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় প্রায়ই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি উপাসনালয় থেকে শুরু করে স্কুলসহ বিশ্ববিদ্যালয়েও ঘটে গেছে বন্দুক হামলার ঘটনা। এর ফলে নিহত হয়েছেন অনেকেই। শুধু তাই নয়, কয়েকদিন আগেই দেশটির একটি বাড়ি থেকে হাজারের ওপর অস্ত্র জব্দ করা হয়। এসব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু পদক্ষেপ নিলেও খুব বেশি চিন্তিত মনে হচ্ছে না তাদের।
আর এ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন। তিনি বলেছেন, ‘আমি আসলে বুঝতে পারি না, যুক্তরাষ্ট্রে গোলাগুলির ঘটনাগুলোর পরও কেন দেশটি শক্তিশালী অস্ত্র আইন পাস করছে না।’
আজ বুধবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে সংবাদমাধ্যম সিএনএনের একটি সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন জেসিন্ডা আরডার্ন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ ও জেসিন্ডা আরডার্ন এ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এত বন্দুক হামলার পরও দেশটি অস্ত্র আইনে তেমন পরিবর্তন না আনায় জেসিন্ডা বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় হত্যাকাণ্ডের পর তারা তাদের অস্ত্র আইন পরিবর্তন করেছে। নিউজিল্যান্ডে হত্যাকাণ্ডের পর পরিবর্তন হয়েছে অস্ত্র আইন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপারে আমি সন্দিহান।’
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে বন্দুক হামলার পরই অস্ত্র আইনে পরিবর্তনের ঘোষণা দেয় নিউজিল্যান্ড। সব ধরনের সেমি অটোমেটিক অস্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ করে তারা।
জেসিন্ডা বলেন, ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে অস্ত্রের প্রয়োজন হয়। তাই বলে এই নয় যে, সেমি অটোমেটিক অস্ত্র ও রাইফেল ব্যবহার করতে হবে।’
জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যমগুলোকেও সন্ত্রাসবাদের ব্যাপারে কঠোর হতে বলেছেন জেসিন্ডা আরডার্ন।
এদিকে প্যারিসের সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা ও প্রযুক্তিবিষয়ক কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। এ ব্যাপারে জেসিন্ডা বলেন, ‘এ বৈঠক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো নিয়ম বেঁধে দেওয়ার জন্য নয়, সব প্রতিষ্ঠানকে একই টেবিলে বসে কথা বলার জন্য করা হচ্ছে।’ ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এ সম্মেলনে সমর্থন জানিয়েছেন বলেও জানান নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।
জেসিন্ডা আরো জানান, এ বৈঠকে মূলত সন্ত্রাসবাদের ব্যাপারে কথা বলার জন্য সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এ সম্মেলনে গুগল, টুইটার ও ফেসবুকের প্রতিনিধিরা ছাড়াও বিভিন্ন প্রযুক্তিবিষয়ক কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button