যুক্তরাজ্যকে পিপিইর জন্য সতর্ক করা বাংলাদেশি ডাক্তারের মৃত্যু
যুক্তরাজ্যে নতুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আব্দুল মাবুদ চৌধুরী (৫২) নামে এক ব্রিটিশ বাংলাদেশি চিকিৎসক মারা গেছেন। হাসপাতালে ১৫ দিন ভর্তি থাকার পর গত বুধবার তার মৃত্যু হয়।
তিনি গত ১৮ মার্চ ফেসবুকে এক বার্তায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে সতর্ক করে বলেছিলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের জরুরি ভিত্তিতে আরো পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) প্রয়োজন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ ও আলজাজিরার খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ডা. আব্দুল মাবুদ রমফোর্ডের কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ছিলেন। বাংলাদেশ থেকে ব্রিটেনে যাওয়ার পর ২০ বছরের বেশি সময় ধরে এনএইচএসে কাজ করেছেন।
এক বার্তায় তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের প্রত্যেক স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে পিপিই নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছিলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা সরাসরি রোগীর সংস্পর্শে যায় এবং অন্যান্যদের মতো পরিবার ও সন্তান নিয়ে এই পৃথিবীতে রোগমুক্তভাবে বেঁচে থাকার মানবিক অধিকার আমাদেরও আছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন।
ডা. আব্দুল মাবুদ চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংগঠন মুসলিম ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন। বিবৃতিতে তারা বলেছে, এ খবরে আমরা গভীরভাবে ব্যথিত। তার পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা ও দোয়া রইলো।
চিকিৎসকদের সুরক্ষা নিয়ে আব্দুল মাবুদের উত্কণ্ঠা যে অমূলক ছিল না, তার প্রমাণ এরই মধ্যে পেয়েছে ব্রিটেন। দেশটির অনেক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন বেশ কয়েকজন।
আব্দুল মাবুদ চৌধুরীর ছেলে ইন্তিশার চৌধুরী স্কাই নিউজকে বলেন, আমার বাবা কেবল নিজের পরিবার নয়, সহকর্মী এবং অপরিচিত মানুষদের জন্যও ভাবতেন। সব মানুষের জন্য ছিল তার ভালোবাসা ও সহানুভূতি। তাই তিনি কারো ভুল ধরিয়ে দিতে কুণ্ঠাবোধ করতেন না।




