খেলাশিরোনাম

মেহেদির অলরাউন্ড নৈপুণ্যে রাজশাহীর রোমাঞ্চকর জয়

মেহেদির অলরাউন্ড নৈপুণ্যে মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ২ রানের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে রাজশাহী।
ব্যাট হাতে ঝোড়ো ফিফটিতে দলকে এনে দিয়েছিলেন চ্যালেঞ্জিং পুঁজি। পরে বল হাতেও আলো কাড়লেন মেহেদি হাসান। বিশেষ করে শেষ ওভারে জয়ের জন্য যখন ৯ রান প্রয়োজন বেক্সিমকো ঢাকার, তখন বল হাতে তুলে নিয়ে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীকে এনে দিলেন দারুণ জয়।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৬৯ রান করেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন রাজশাহী। জবাবে ৫ উইকেটে ১৬৭ রানে থেমেছে মুশফিকুর রহিমের ঢাকা।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মুশফিকুর রহিম ও আকবর আলির চতুর্থ উইকেট জুটি ঢাকাকে রেখেছিল জয়ের পথে। দুজন যোগ করেন ৭১ রান। আকবর ২৯ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় করেন ৩৪ রান। মুশফিক ৩৪ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৪১ রান করেন।
এই দুজনের বিদায়ের পর ঢাকার কাজ কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু মুক্তার আলীর ব্যাটিং ঝড়ে স্বপ্ন দেখতে থাকে ঢাকা।
শেষ ২ ওভারে ৩০ রান প্রয়োজন ছিল ঢাকার। ১৯তম ওভারে মুক্তার আলি হাঁকান ৩ ছক্কা। ফরহাদ রেজার করা ওভার থেকে আসে মোট ২১ রান। তাতেই যেন স্বপ্নটা বেড়ে যায়।
শেষ ওভারে ৯ রান প্রয়োজন পড়ে ঢাকার। রাজশাহীর পক্ষে বল হাতে নেন মেহেদি। প্রথম ৩ বলই ডট দেন মেহেদি। তাতে চাপে পড়ে যায় ঢাকা। চতুর্থ বলটায় মুক্তার আলি বাউন্ডারি হাঁকান। পরের বলে নাটকীয়তা। টিভি আম্পায়ারের সহায়তায় নো বলের সিদ্ধান্ত জানান আম্পায়ার। তবে ফ্রি হিট বলে কোনো রান নিতে পারেননি মুক্তার। শেষ বলে নিতে পারেন মাত্র ১ রান। তাতে জয়ের উৎসবে মাতে রাজশাহী।
মুক্তার শেষ পর্যন্ত ১৬ বলে ১ চার ও ৩ ছক্কায় ২৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। সাব্বির রহমান অপরাজিত ছিলেন ৫ রানে।
মেহেদী ৪ ওভার বল করেন ২২ রান খরচায় ১ উইকেট নেন। এছাড়া ইবাদত হোসেন, আরাফাত সানি ও ফরহাদ রেজা নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।
এর আগে রাজশাহীর দুই ওপেনারের শুরুটা একেবারে খারাপ ছিল না। তবে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বিদায় নেন দ্রুত। ১৬ বলে ২ ছক্কায় ১৭ রান করেন। আরেক ওপেনার আনিসুল ইসলাম ইমন ভালো খেলছিলেন। ঢাকার বোলারদের চতুর্থ শিকার হওয়ার আগে ২৩ বলে ৩৫ রান করেন তিনি।
মাঝে রনি তালুকদার (৬), মোহাম্মদ আশরাফুল (৫) ব্যর্থ ছিলেন। পাঁচ নম্বরে নামা ফজলে মাহমুদ ডায়মন্ড ডাকের শিকার হয়েছেন। কোনো বল খেলার আগেই আউট।
৬৫ রানে ৫ উইকেট হারানো দলকে এরপর টেনেছেন নুরুল হাসান সোহান ও মেহেদি। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনে গড়েন ৮৯ রানের চোখ ধাঁধানো জুটি। সোহান ২০ বলে ৩৯ রান করেন ২ চার ও ৩ ছক্কায়। সোহানের বিদায়ের পর সাজঘরে ফেরেন মেহেদিও। তবে তার আগে অর্ধ শতক পূর্ণ করেন তিনি। ৩২ বলে ৫০ রানের ইনিংস সাজান ৩ চার ৪ ছক্কায়। আসরে যা প্রথম ফিফটি।
ফরহাদ রেজা শেষ দিকে ১১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন। ঢাকার পক্ষে মুক্তার আলী সর্বাধিক ৩ উইকেট নিয়েছেন। ম্যাচসেরা হয়েছেন মেহেদী হাসান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button