মৃত্যুর আগেই সমাধি বাঁধাই করেছেন লাশকাটা দুলাল

মাহতাবুর রহমান, আমতলী, বরগুনা : বরগুনা জেলার ৬ উপজেলায় অস্বাভাবিক ভাবে মৃত্যু হলেই লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠানো হয় বরগুনা সদরের ডুম ঘরে। সেখানেই দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে লাশকাটা ছেড়ার কাজ করছেন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ দুলাল ফকির। দুলাল ফকির বেশি পরিচিত লাশকাটা ডুম দুলাল নামে। সম্প্রতি বরগুনায় মৃত্যুর আগেই নিজের সমাধি বাঁধাই করেছেন এই দুলাল ফকির।
বরগুনা জেলা হবার পর পরই ১নং ওয়ার্ডের চরকলোনীতে তিনি লাশকাটা ছেড়ার কাজ শুরু করেন। নয় ছেলে এক মেয়ে নিয়ে যৌথ পরিবারে বসবাস করছেন বরগুনা সদর উপজেলার পোটকাখালি আশ্রান প্রকল্পে বরাদ্দকৃত দুটি ঘরে। পরিবারের ভরণপোষণ মিটিয়ে ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া লিখিয়েছেন। একসময়ের নামকরা ডুম দুলালের কালো গোপ চোখে চসমা সাথে থাকতো গামছা এবং সর্বদা পরিপাটি থাকতেন তিনি। লাশের গন্ধে রক্তে- মাংসে মিশে থাকতো সারাদিন রাত। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি নিজ হাতে নিজের কবরস্থান নির্মাণ করেছেন। ইসলামিক ব্যক্তিত্বদের মতে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এটা ঠিক নয়।
দুলাল ফকিরের ঘরের পাশে অভিযান ১০ লঞ্চে নিহত অজ্ঞাত মানুষের গণকবর ডুম দুলালের দেখাশোনা ও দায়িত্ব ভাড় রয়েছে। ঠিক তারই পূর্ব পাশে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ১০ একর জমিতে কিছু অংশে নির্মাণ করেছেন তার নিজ কবরস্থান। তিনি চান তার মৃত্যুর পরে এখানেই তার দাফন করা হোক।
দুলাল ফকির বললে, নিজে যত্ন করে এই কবর করেছি, দেয়াল করে সীমানা দিয়েছি। এখানে মৃত্যুর পরে আমি থাকতে চাই।
দুলাল ফকিরের সন্তান ও এলাকাবাসী বললেন, যেখানে তার মৃত্যু হোক আমরা তাকে কথা দিয়েছি আমরা তার লাশ এনে এই কবরে দাফন করবো।




