
১৯৯৩ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে বহুল আলোচিত বোমা হামলায় দোষী সাব্যস্ত করে গ্যাংস্টার আবু সালেমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া তাহির মার্চেন্ট ও ফিরোজ খানকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরেক অভিযুক্ত করিমুল্লাহ খানকে দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে ১৯৯৩ সালের মার্চের ১২ তারিখ ১৩টি সিরিজ বোমা হামলায় ২৫৭ জন নিহত হয়, গুরুতর আহত হয় ৭০০ জন। হামলার লক্ষ্য ছিল এয়ার ইন্ডিয়া ভবন, বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ, জাভেরি বাজার, হোটেল সি রক, হোটেল জুহু সেন্টর। সব মিলিয়ে ২৭ কোটি রূপি সমপরিমাণের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবু সালেম ছিলেন এই হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড। একটি বিশেষ আদালত আবু সালেম ও করিমুল্লাহ খানকে হত্যা, অস্ত্র সরবরাহসহ কিছু গুরুতর অভিযোগ করা হয়।
২০০২ সালে পর্তুগালে গ্রেফতার হন আবু সালেম। ২০০৫ সালে আবু সালেমকে পর্তুগাল থেকে অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমে ভারতে ফেরত আনা হয়। আবু সালেমকে ফিরিয়ে আনার সময়ে পর্তুগালের কাছে গ্যারান্টি দেয়া হয় যে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে না। উল্লেখ্য, পর্তুগাল মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি বাতিল করেছে এবং এর বিরোধিতা করার নীতি গ্রহণ করেছে। সালেম ও মুস্তাফা দোসা ছিলেন মুম্বাই হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী। মুস্তাফা দোসাকে আরব আমিরাত থেকে অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হয়, গত জুনে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
আবু সালেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি গুজরাট থেকে মুম্বাইয়ে অস্ত্র সরবরাহ করেছেন। আদালত বলেছে, এটা প্রমাণিত যে আবু সালেম অভিনেতা সঞ্জয় দত্তর কাছে অস্ত্র ডেলিভারি করেছেন। বাড়িতে একে-৫৬ রাইফেল, ২৫০ গুলি ও হ্যান্ড গ্রেনেড বাড়িতে রাখার কারণে তার কারাদণ্ড হয়েছে।
এই মামলায় আদালত ৮০০ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য রেকর্ড করেছে। আবু সালেমসহ তিন অভিযুক্ত ভারতের ক্রাইম ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের জেরায় অপরাধ স্বীকার করেছেন। এনডিটিভি।




