
মানিকগঞ্জ থেকে মো. নজরুল ইসলাম : আমাদের দেশের মৌলিক চাহিদার অন্যতম হলো চিকিৎসা বিজ্ঞান। কথিত আছে দেশে রোগির চেয়ে ডাক্তার বেশি মানে হলো সবাই একটা পরামর্শ দিয়ে বসে যেটি আদৌ বিজ্ঞানসম্মত নয়। দেশে এখনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের যথেষ্ট অভাব ও কদর রয়েছে। বাড়তি জনসংখ্যার স্বাস্থ্যসেবা দিতে সরকার প্রতিনিয়তই হিমশিম খায়। এই দুর্বলতাকে কেন্দ্র করে পুজিবাদি এই সমাজে একশ্রেণীর শিক্ষিত চতুর ও ডাক্তার মিলে হাসপাতালকে বানানো হয়েছে কসাইখানা। ¯্রােতের এই বিপরীতে আর্তমানবতায় সেবায় এখনো নিবেদিত আছে অসংখ্য সমাজসেবী চিকিৎসক। এটি তাদের পেশা হলেও সেবাকে নিয়েছেন প্রকৃত কাজ ও নেশা হিসেবে। তাদের মধ্যে অন্যতম একজন আমাদের মানিকগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র গঙ্গাধরপট্রিতে নিজ বাসভবনে প্রায় চার দশক ধরে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন আমাদের সকলে প্রিয় গরিবের ডাক্তার বলে খ্যাত মানবতার সেবক ডা: উমেশ চন্দ্র সরকার। স্থানীয় ভাবে আমরা তাকে বিশেষ ভাবে সম্মানিত করতে না পারলেও ”একুশে স্মৃতি পরিষদ” নামক ঢাকার একটি জাতীয় সংগঠন তাকে চিকিৎসা সেবায় বিশেষ অবদানে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।
ডা: উমেশ চন্দ্র সরকারে বিশেষ এই পুরুস্কার উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সামাজিক সংগঠন উত্তরণ এর আয়োজনে মানিকগঞ্জ স্যাক কার্যালয়ে ডা: উমেশ চন্দ্র সরকার এর উপর প্রীতি ও সম্মাননা শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়।
আলোচনা সভায় মানিকগঞ্জ বাজার শ্রী শ্রী লক্ষীমন্ডপ মন্দির কমিটির সভাপতি কালিপদ ঘোষ এর সভাপতিত্তে¡ ও উত্তরণ এর সভাপতি বিমল চন্দ্র রায় এর সঞ্চালনায় ডা: উমেশ চন্দ্র সরকার এর জীবন-কর্ম ও সামাজিক সেবার উপর প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ৭১ এর ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি এ্যাড.দিপক কুমার ঘোষ, আলোচনায় আরো
অংশগ্রহন করেন মানিকগঞ্জ জজ কোটের সম্মানিত বিজ্ঞ এপিপি এ্যাড. নিরাঞ্জন কুমার বসাক,শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ী মন্দির কমিটির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা সংকর লাল ঘোষ, সাংস্কৃতিক বিপ্লবী সংঘ সাবিসের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম ফারুক, স্যাকের সাধারন সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম, গড়পাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব হাসিব উদ্দিন সেলিম, মানিকগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক জাহাাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, প্রভাষক আরশেদ আলী, পল্লী চিকিৎসক ভজন কৃষ্ণ বনিক প্রমুখ।
বক্তারা বলেন আমরা গ্রহন করতে জানি দিতে জানিনা এটি বাঙ্গালির স্বভাব,গুনি লোকের কদর জানিনা বিধায় আজ গুনি লোকের অভাব। সমাজে এখনো নিরবে নিভৃতে যারা আছেন আমরা তাদেরকে সামনে আনতে চাই না। চারদিকে ব্যানার ফেস্টুনের ছরাছরি ছবি বানিজ্য তারা কি আজ সমাজের মডেল যদি তাই হয় তাহলে আমরা বেশি দিন সভ্য সমাজে থাকতে পারব না আমাদের ঐতিহ্যেও কথা বলতে পারবো না। সমাজে এখনো ড:া উমেশ চন্দ্রদের মতো মানুষ নিরবে নিরলসভাবে আর্তমানবতার সেবায় কাজ করছে আমরা তাদের কথা বলতে চাই সামনে আনতে চাই।উপযুক্ত ব্যক্তিকে উপযুক্ত সম্মান দেয়ার জন্য একুশে স্মৃতি পরিষদকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
আমরা চাই সমাজে আরো উমেশ চন্দ্র সৃষ্টি হোক আলোকিত হোক আমাদের সকলের জীবন।



