গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরে চলতি মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধের দাবিতে জায়ান্ট গ্রুপের তিন কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেছে।
মঙ্গলবার সকালে শ্রমিকরা এপ্রিল মাসের বেতন ভাতাসহ ঈদ বোনাস পরিশোধের দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করে।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়কের বেশ কয়েকটি গাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি কারখানা ভাঙ্চুর করে। পরে পুলিশ টিয়ারসেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জিএমপির বাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মালেক খসরু খান ও স্থানীয়রা জানান, গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন চান্দনা এলাকার শহীদ রওশন আলী সড়কের জায়ান্ট গ্রুপের তিন কারখানা সফি প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, মেভিস গার্মেন্টস লিমিটেড ও জায়ান্ট নিট ফ্যাশনে দেড় হাজারেরও বেশি শ্রমিক কাজ করে।
শ্রমিকদের মার্চ মাসের বেতন ভাতা নির্ধারিত তারিখ সোমবার পরিশোধ করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার কাজে যোগ দিতে শ্রমিকরা সকাল সোয়া ৭টার দিকে কারখানার গেটে এসে জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তারা চলতি এপ্রিল মাসের বেতন ভাতাসহ ঈদ বোনাস পরিশোধের দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করে।
এ সময় তারা এপ্রিল মাসের বেতন ভাতা আগামি ১৫ এপ্রিল এবং ঈদ বোনাস ২০ এপ্রিলের মধ্যে পরিশোধের দাবি জানায়। এছাড়াও প্রতিমাসের ৭ তারিখের মধ্যে বেতন ভাতা পরিশোধ ও পিসি কমিটি বাতিলেরও দাবি জানায়।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তাদের সাথে আন্দোলনে অংশ নিতে পাশের কারখানাগুলোতে গিয়ে শ্রমিকদের আহ্বান জানিয়ে কারখানায় প্রবেশে বাঁধা দেয়।
হাসান তানভীর ফ্যাশন লিমিটেড ও লিবাস নিটওয়্যার লিমিটেডসহ আশেপাশের কয়েকটি কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাংচুর করতে থাকে। একপর্যায়ে আন্দোলনরতরা পাশের ঢাকা-গাজীপুর সড়কে গিয়ে বিভিন্ন যানবাহন ভাংচুর করতে করতে চান্দনা চৌরাস্তার দিকে যেতে থাকে।
এ সময় পুলিশ বাধা দিলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং পথচারীরা দিকবিদিক ছুটোছুটি শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১২ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ও ৫ রাউন্ড টিয়ার শেল ছুঁড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে প্রায় দেড়ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
কারখানার জিএম মোখলেছুর রহমান মুকুল বলেন, শ্রমিকরা পূর্ব ঘোষণা ছাড়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে চলতিমাসের বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। শ্রমিকদের পাওনাদি সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা হবে।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনার পর দুপুরে পুলিশের মধ্যস্থতায় কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে শ্রমিক প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দাবিসমূহ মেনে নিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধের আশ্বাস দেন। এ সময় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বুধবার হতে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়ার আশ্বাস দেয়।




