মহানগরশিরোনাম

মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, পরিচালক গ্রেপ্তার

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আনিসুল করিম ওরফে শিপনকে (৩৫) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতাল বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় হাসপাতালটির অন্যতম মালিক ও চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট ১১ জনকে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হল। তাদের মধ্যে হাসপাতালের ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
বরিশাল মহানগর ট্রাফিক পুলিশের সহকারী কমিশনার আনিসুল করিম মানসিক চিকিৎসার জন্য সোমবার আদাবরের ওই হাসপাতালে যান। কিন্তু চিকিৎসারবদলে সেখানে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, মামলার অন্যতম আসামি ডা. নিয়াজ মোর্শেদকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি মাইন্ড এইড হাসপাতালের একজন পরিচালক। অসুস্থতার কারণে বর্তমানে তিনি নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এর আগে গ্রেপ্তার ১০ জনকে আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদাবর থানার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ ফারুক মোল্লা।
এই ১০ জন হলেন- হাসপাতালের মার্কেটিং ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ জয়, কো-অর্ডিনেটর রেদোয়ান সাব্বির, কিচেন শেফ মো. মাসুদ, ওয়ার্ডবয় জোবায়ের হোসেন, ফার্মাসিস্ট মো. তানভীর হাসান, ওয়ার্ডবয় মো. তানিম মোল্লা, সজীব চৌধুরী, অসীম চন্দ্র পাল, মো. লিটন আহাম্মদ ও মো. সাইফুল ইসলাম পলাশ।
দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আসামিদের গ্রেপ্তারের কথা জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. হারুন অর রশিদ।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মানসিক সমস্যায় ভুগে সোমবার আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন আনিসুল। ভর্তির পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই মারা যান তিনি।
তবে পরিবারের অভিযোগ, ভর্তির পরপর হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
এ ঘটনায় হাসপাতাল থেকে পুলিশের সংগ্রহ করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুলকে টানাহেঁচড়া করে একটি কক্ষে ঢোকানো হয়। তাকে হাসপাতালের ছয়জন কর্মচারী মিলে মাটিতে ফেলে চেপে ধরেন।
এরপর নীল পোশাক পরা আরও দুজন কর্মচারী তার পা চেপে ধরেন। এ সময় দুজন কর্মচারী হাতের কনুই দিয়ে তাকে আঘাত করছিলেন। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আরিফ মাহমুদও সেখানে ছিলেন। একটি কাপড়ের টুকরা দিয়ে আনিসুলের হাত বাঁধা হয়। চার মিনিট পর আনিসুলের শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করায় তারা ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেছিল।
হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটের খাতায় লেখা রয়েছে, সেখানে নিয়ে আসার আগেই আনিসুলের মৃত্যু হয়েছিল।
এ ঘটনায় আদাবর থানায় হত্যা একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার আনিসুল করিম শিপনের বাবা বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button