sliderস্থানিয়

মহানন্দী নদীর ভাঙ্গনে বিলীন ১০০ পরিবার,ঝুঁকির মধ্যে ১২০০ পরিবার

শিবগঞ্জ(চাঁপাইনবাবগঞ্জ)সংবাদদাতা: এবার দিয়ে আমি পাঁচবার ভাঙ্গনের কবলে পড়লাম। এর আগে চারবার এ সর্বনাশা মহানন্দা নদীর ভাঙ্গনে পড়ে সবকিছু হারিয়ে এখানে বাড়ি বেঁেধ কামলা খেটে কোন রকমে দিনাদিপাত করছিলাম। তাও আবার ভাঙ্গনের সন্নিক্ষণে এসে পৌঁছেছি। আমার শয়ন ঘর থেকে নদীর অবস্থান মাত্র ১০/১৫ হাত দূরে। যে কোন সময় বিলীন হতে পারে আমার এ ক্ষুত্র বাড়িটি। সরজমিনে গেলে মহানন্দা নদীর ভাঙ্গন কবলিত এলাকার দক্ষিণ ইসলাম পুর গ্রামের হরিজুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো জানান। শুুুধু হরিজুল ইসলামই নয়, একই এলাকার আব্দুল করিম, মনিরুল ইসলাম, এলিজা বেগম,মাসকুরা বেগম সহ প্রায় ২০/২৫জন বলেন, আমরা কেউ দুইবার,কেউ তিনবার আবার কেউ চারবার ভাঙ্গনের কবলে পড়ে নি:স্ব হয়েছি। প্রায় মাস খানেক আগেও সাবেক চেয়ারম্যান আনসারুর ইসলামের বাড়ি থেকে শুরু কর চককীতির রানীবাড়ি গ্রামের অবসার প্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক মুনজুর হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায দেড় কিলোমিটার জুড়ে প্রায় ৩০টি বাড়ি মহানন্দা নদীতে বিলীন হয়েছে।

তারা আরো জানান গত বছর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় ওই পরিবারগুলো নি:স্ব হয়ে অসহায় জীবনযাপন করছে। ঝুঁকির মধ্যে আছে আরো প্রায় ১২০০ পরিবার। সরজমিনে দেখা গেছে একেবারে নদীর পাড় ঘেঁষে হতাশের সাথে অসহায় জীবনযাপন করছে এ পরিবার গুলো। এলাকাবাসী জানান, প্রায় ২০ দিন আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষ ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। আমরা সেদিন দাবী জানিয়েছি স্থায়ীভাবে নদীর পাড় বাঁধানো জন্য। কারণ নদীর পাড়ে বালি ভর্তি জিও ব্যাগ দিয়ে নদীর পাড় বাঁধানোর কিছুদিন পর নদীর পানিতেই ভেসে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, এভাবে জিও ব্যাগ দিয়ে নদীর পাড় বাঁধানোর মাধ্যমে প্রমানিত হয় যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের টাকা পানিতেই যায়। কাজের কাজ কিছুই হয় না। এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক আবুল কাইয়ুম মিঠু মিঞা জানান,গত এক বছর থেকে মহানন্দী নদীর ভাঙ্গনে প্রায় ১০০টি পরিবার হারিয়েছে বসতভিটা। আরো সহস্রাধীক পরিবার ঝুঁকির মধ্যে। শুধু তাই নয়, ১০৪ নং হাজী তৈমুর রহমান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,ও রানীবাড়ি গ্রামের পাগলাটোলা জামে মসজিদ বর্তমানে ভাঙ্গনের হুমকীর মুখে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারের নিকট দাবী স্থায়ী ভাবে ব্যবসা গ্রহন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মী প্রতিষ্ঠান সহ হাজারো পরিবারকে রক্ষা করা হোক। একই দাবী হাজী তৈমুর রহমান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মন্ডলী ও দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিবদর্শন করেছি। তিন হাজার জিও ব্যাগ দিয়ে অস্থায়ীভাবে পাড় বাঁধানো ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। তাছাড়া মহানন্দা ও পূর্ণভবা নদীর ভাঙ্গন এলাকার প্রায় ৩৬কিলোমিটার নদীর পাড় স্থায়ী ভাবে বাঁধানোর জন্য ১১০০ কোটি টাকার একটি পরিকল্পনা তৈরী উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। আশা করি খুব শীঘ্রই স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্ভব হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button