উপমহাদেশশিরোনাম

ভারতে ৫ বছর বসবাস করলেই নাগরিকত্ব পাবে অমুসলিমরা

পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেবে দেশটি। শর্ত হিসেবে সেখানে পাঁচ বছর বসবাস করলেই মিলবে নাগরিকত্ব সনদ।
এমন বিধান রেখে গত ৪ ডিসেম্বর একটি খসড়া বিলে অনুমোদন দিয়েছে দেশটির মন্ত্রিসভা।
আগামী সোমবার সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল (ক্যাব) নামের ওই বিলটি পার্লামেন্টে (লোকসভা) তোলা হবে।
বিলে প্রস্তাব করা হয়েছে, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে আসা হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও পার্সি ধর্মাবলম্বী শরণার্থীরা ভারতীয় নাগরিক বিবেচিত হবে।
ধারণা করা হচ্ছে, সোমবার দেশটির পার্লামেন্টে ওই বিলটি গৃহীত হতে পারে। এর আগেও একবার পার্লামেন্টে এ বিলটি পেশ করা হলেও তা পাস হয়নি। তখন আসামসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলজুড়ে বিলটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছিল।
১৯৫৫ সালের মূল আইনে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব পেতে হলে এ দেশে থাকতে হবে ১১ বছর। তবে প্রথম মোদি সরকারের আমলে আনা বিলটিতে তা কমিয়ে ছয় বছর করা হয়। এবার কমানো হলো আরও এক বছর। সংশোধিত নাগরিকত্ব বিলের উদ্দেশ্য ওই ছয়টি সম্প্রদায়কে ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া। এর বিরোধিতা করেছেন বিরোধী রাজনীতিকরা। তারা বলছেন, এতে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্য রয়েছে।
তবে কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, তারা প্রতিবেশী দেশের ‘নিপীড়িত’ সংখ্যালঘুদের ‘সহযোগিতা দিতে দায়বদ্ধ’।
প্রস্তাবিত সংশোধিত বিলে কোনও শরণার্থী অমুসলিম হলফনামা দিলেই তাকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে দাবি বিজেপি নেতাদের। তবে কোনও মুসলিম যদি নিজেকে হিন্দু বা পার্সি বা বৌদ্ধ হিসেবে দাবি করে তা হলে তা আটকানোর উপায় রয়েছে কি না, তা নিয়ে নীরব বিজেপি শিবির।
দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নাগরিকত্ব বিল পাস হলে পশ্চিমবঙ্গে সব থেকে বেশি সুবিধা হবে মতুয়া সম্প্রদায়ের। কারণ তারা দীর্ঘ সময় ধরে নাগরিকত্বের দাবিতে সরব রয়েছে।
নতুন বিলে বলা হয়েছে ইনার লাইন পারমিট (বেঙ্গল ইয়েস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রেজুলেশন-১৮৭৩) ও ষষ্ঠ তফশিলভুক্ত উপজাতীয় এলাকায় ওই আইন প্রযোজ্য হবে না। সেই অনুযায়ী অরুণাচল, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরার এই বিলের আওতাভুক্ত নয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button