উপমহাদেশশিরোনাম

‘ভারতের মুসলিমদের অনুপ্রবেশকারী বলে আঙুল তোলা বন্ধ করতে হবে’

‘জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি ফর বাঙালি রিফিউজিস’-এর পক্ষ থেকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে আঙুল তোলার ষড়যন্ত্র বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সংগঠনটি ২০১৪ সালকে ভিত্তি বছর ধরে হিন্দু-বৌদ্ধ ও অন্য দেশান্তরিত উদ্বাস্তুদের ভারতের নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে। গতকাল (সোমবার) কোলকাতা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ওই দাবি জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি বিজেপিশাসিত অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি থেকে ৪০ লাখ মানুষের নাম বাদ যাওয়ায় দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
‘জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি ফর বাঙালি রিফিউজিস’-এর সর্বভারতীয় সভাপতি সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস আজ (মঙ্গলবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব অর্জনের অধিকারকে শর্তমুক্ত করতে হবে। মুসলিমরা স্থানীয় মানুষ হওয়ায় তাদের দিকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে আঙুল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল ২০১৬ যা আনতে চলেছে তার মাধ্যমে দেশান্তরিত উদ্বাস্তু মানুষের নাগরিকত্ব সমস্যার কোনো সমাধান হবে না। কারণ, ওই বিলে ‘নাগরিকত্ব’ শব্দই নেই। এটা ঘটনা যে, হিন্দু, বৌদ্ধরাই মূলত দেশান্তরিত হয়ে আসায় তাদের নাগরিকত্ব দরকার। কিন্তু যে বিল আনা হচ্ছে, তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য আনা হয়নি, তাদের বিভ্রান্ত করার জন্য আনা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং সংসদে যে বিবৃতি দিয়েছেন তাতে বলা হয় হিন্দু, বৌদ্ধরাও ভারতের বর্তমান আইনে অনুপ্রবেশকারী। তাই তারা নাগরিকত্বের জনে আবেদন করতে পারে না। এই বিল পাস হলে তারা নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন। কিন্তু তার সঙ্গে যে ২/৩ টা শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে যেমন- তারা বাংলাদেশে বাস করত তার প্রমাণ দিতে হবে, তারা ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়েছে তার প্রমাণ দিতে হবে। কিন্তু এসব প্রমাণ দেয়া সম্ভব নয়, ফলে এরা কোনোদিনই নাগরিকত্ব পাবে না।’
এছাড়া বিজেপি বিরোধী তৃণমূল, সিপিএম ও কংগ্রেস দল উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্বের প্রশ্নে ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ গোছের ভূমিকা নিয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পার্সটুডে

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button