বিধ্বংসী সেই স্পেল

বল নয় যেন কামানের গোলা একেকটি, যার দুইটিতে পরপর ক্যাচ তুলে দিলেন ভিরাট কোহলি। প্রথমবার আজহার আলী মিস করলেও পরের বার ভুল করেননি তরুণ শাদাব খান। রোহিত শর্মা তো ইনসুইং ডেলিভারির লাইনই বুঝতে পারেননি। আর আরেক ওপেনার শেখর ধাওয়ান রাইজিং ডেলিভারিটি থার্ডম্যানে ঠেলতে গিয়ে ধরা পড়লেন উইকেটের পেছনে। মোটামুটি এখানে শেষ পাক-ভারত ফাইনালের রোমাঞ্চ। এরপর যা হয়েছে তা নিছক আনুষ্ঠানিকতা। মোহাম্মদ আমির তার একটি স্পেলেই নিভিয়ে দিলেন ম্যাচের লড়াইয়ের সব আগুন।
ঠের ইনজুরির কারণে সেমিফাইনালে খেলতে পারেননি। সুস্থ্য হয়ে উঠতেই রোববারের ফাইনালে তাকে দলে নিয়েছেন সরফরাজ। ইনজুরি থেকে ফেরা বোলারদের সাধারণত ছন্দ পেতে সময় লাগে। তার ওপর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মাঠে ফেরার পর যেন সেই আসল আমিরকে পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু সরফরাজ আহমেদ হয়তো তার তুনের সেরা তীরটিকেই বড় মঞ্চের জন্য যোগ্য মনে করেছেন। তাই ফলও পেয়েছেন হাতে নাতে। এমন চাপের ম্যাচে নিজেকে উজার করে দিতে যেন মরিয়া হয়ে ছিলেন আমির। পেস, সুইং,গতি কি ছিলো না বোলিংয়ে। যার সামনে ভারতের বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইন আপকে মনে হয়েছে অসহায়।
প্রথম ওভারের প্রথম দুটি বলেই আভাস ছিলো ভয়ঙ্কর কিছুর। রোহিত শর্মা কোন মতে সামাল দিয়েছেন। তৃতীয় বলটি লেগস্ট্যাম্পের বাইরে ইনসুইং করে ভেতরে যাওয়ার সময় আঘাত করে প্যাডে। আম্পায়ারকে আঙ্গুল তুলতে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়নি। পরের ওভারে আমির যেন আরো ভয়ঙ্কর হয়ে দেখা দিলেন, যাতে পরপর দুটি বলে ব্যাটের কানা ছুইয়ে ক্যাচ দিতে বাধ্য হলে বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যান ভিরাট কোহলি। দুটি বলই ছিলো ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটার গতির, লেগ স্ট্যাম্পের বাইরে পিচ করে ভেতরো ঢোকা। রোহিত আর কোহলির বিদায়ের পর কাউন্টার অ্যাটাক শুরু করেছিলেন শেখর ধাওয়ান। কিন্তু আমিরের ব্যক্তিগত পঞ্চম ও ইনিংসের নবম ওভারের একটি রাইজিং ডেভিভারি সামলাতে পারেননি এই ওপেনার। ব্যাটের কানা ছুয়ে চলে গেলে সরফরাজের গ্লাভসে। মূলত ম্যাচ এখানেই শেষ।
সব মিলে ছয় ওভারের একটি স্পেল বোলিং করেছন আমির। দুটি মেডেন ওভার দিয়ে রান খরচ করেছেন ১৬টি। তুলে নিয়েছেন ভারতের প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে। এরপর হাসান আলীসহ অন্যরা ভারতীয় ব্যাটিং লাইনের বাকিটা গুটিয়ে দেয়ায় তাকে আর বল হাতেই নিতে হয়নি।




