
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এমপি বলেছেন, ‘আগামী দিনে বিজেপিকে ভারত ছাড়া করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দিল্লিতে ধর্মনিরপেক্ষ সরকার তৈরি করা হবে। এই লক্ষ্যেই আমরা অবিচল রয়েছি।’ গতকাল (শুক্রবার) পূর্ব-বর্ধমান জেলার গলসী হাইস্কুল মাঠে এক জনসভায় ভাষণ দেয়ার সময় তিনি ওই মন্তব্য করেন।
আগামী ১৯ জানুয়ারি বিজেপি বিরোধী সর্বভারতীয় নেতাদের উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার ব্রিগেড ময়দানের সমাবেশকে সামনে রেখে অভিষেক এদিন বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় সোচ্চার হন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যারা বাংলায় রাজনৈতিকভাবে লড়তে না পেরে হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে বিভাজনের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় মেরুকরণ করে বাংলাকে অশান্ত করতে চাচ্ছে আমরা সেই ‘গাদ্দার’, সেই ‘অসুরগুলোকে’ বাংলা ছাড়া ও ভারত ছাড়া করার ডাক দিয়ে ব্রিগেডে সমাবেশের ডাক দিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘বাংলায় সিপিএম’র মৃত্যুঘণ্টা যেমন তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছিল, আগামীদিন আমরা এই ‘সাম্প্রদায়িক অসুর বিজেপি’কে ভারত ছাড়া করার জন্য ব্রিগেড সমাবেশের ডাক দিয়েছি। চৌত্রিশ বছরের জগদ্দল পাথর সিপিএমকে যদি আমরা বাংলা ছাড়া করতে পারি, চার বছরের শিশু বিজেপিকেও আগামীদিনে ভারত ছাড়া করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দিল্লির বুকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ সরকার’ তৈরি করব। এটাই আমাদের লক্ষ্য, এই লক্ষ্যে আমাদের অবিচল থাকতে হবে।’
অভিষেক বলেন, ‘বিজেপি এমন একটা রাজনৈতিক দল তারা হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে বিভাজন করে উন্নয়নকে স্তব্ধ করে দিতে চাচ্ছে। যে বলছে, আমি তোমাদের কথা শুনব না, তার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই, ইডি, আয়কর দফতরকে লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে। তারা তৃণমূল কংগ্রেসকে হাজার চেষ্টা করেও ধমকে, চমকে, চোখ রাঙিয়ে, গলা উঁচিয়ে বাড়িতে ঢুকিয়ে রাখতে পারেনি। আমরা কোনোভাবেই বশ্যতা স্বীকার করব না।’
তিনি বলেন, ‘যারা ধর্মের ভিত্তিতে ‘জয় শ্রীরাম’ বলে বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করতে চেয়েছিল, তাদের কী করুণ পরিণতি হয়েছে আমরা তা দেখেছি। বাংলার রসগোল্লা খেতে গিয়ে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিসগড় তাদের হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে। ওখানে বিজেপি’র কি করুণ পরিণতি আপনারা তা দেখেছেন। হিন্দুধর্মের ধারক-বাহক বা রক্ষাকর্তা হিসাবে যারা নিজেদেরকে দাবি করে তারা তিন রাজ্যে যেখানে গড়ে নব্বই শতাংশ ভোটার হিন্দু, সেখানে তারা গো-হারা হেরে গিয়েছেন! ওঁদেরকে ওইসব রাজ্যের মানুষ বিদায় দিয়েছে।’
‘আমরা ধর্মের নামে রাজনীতি করে, গরুর নামে রাজনীতি করে, মন্দিরের নামে রাজনীতি করে কোনদিন মানুষকে আমরা বিভ্রান্ত করিনি। গরুই ওদের উঠিয়েছিল, গরুই ওদের ডোবাবে’ বলেও মন্তব্য করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
পার্সটুডে




