বিজেএমসির কাছে বকেয়া ২৬৫ কোটি টাকা, ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের ঘোষণা

চার অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে সরবরাহ করা কাঁচা পাটের দাম বাবদ বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) কাছে ‘বকেয়া থাকা’ ২৬৫ কোটি টাকা আদায়ে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ পাট ব্যবসায়ী সমিতি।
এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকাল থেকে ঢাকায় বিজেএমসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা করেছেন সমিতির নেতারা।
সমিতির আহ্বায়ক শামীম আহমেদ মোড়ল রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২০১৬-১৭ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিলগুলোর কাছে পাট ব্যবসায়ী ও চাষিদের বকেয়া পাওনার পরিমাণ ২৬৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা যারা রাষ্ট্রায়ত্ব জুট মিলে পাট সরবরাহ করেছি, তাদের মধ্যে অধিকাংশ এজেন্সিতে প্রান্তিক চাষিরাও রয়েছেন। আমরা যারা মিল ঘাটে পাট সরবরাহ করেছি, তাদের মধ্যে অধিকাংশ ব্যবসায়ী ব্যাংকের কাছে ঋণগ্রস্ত।
পাওনা টাকা না পাওয়ায় অর্থসঙ্কটে ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে জানিয়ে শামীম বলেন, পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ ও বিভিন্ন মোকামে ক্ষুদ্র পাট ব্যবসায়ীদের বকেয়া পাওনার চাপে আমরা দিশেহারা।
সরবরাহ করা এই পাট থেকে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে বিজেএমসি তাদের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের মজুরি এবং অন্যান্য খরচ মিটিয়ে এলেও কাঁচা পাট সরবরাহকারীদের বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে ‘উদাসিনতা’ দেখিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা টিপু সুলতান বলেন, সম্প্রতি পাট পণ্য বিক্রি করে বিজেএমসি ৩৩২ কোটি টাকা আয় করেছে। এই টাকা থেকেও পাট ব্যবসায়ীদের পাওনা পরিশোধ করা যায়। আমরা লিখিত আবেদন জানিয়েছিলাম বিজেএমসি চেয়ারম্যানের কাছে। কিন্তু কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি।
এ পরিস্থিতিতে পাট ব্যবসায়ীরা সঙ্কটে পড়েছেন জানিয়ে গত ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারককলিপিও পেশ করেছিলেন সংগঠনের নেতারা।
শামীম আহমেদ বলেন, আগামী ১৮ অগাস্ট থেকে আমরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব। প্রয়োজনে অনশনসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
ক্রমাগত লোকসান দিয়ে আসা বিজেএমসির আওতাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত ২৬টি পাটকল গতমাসে বন্ধ ঘোষণা করে প্রায় ২৫ হাজার স্থায়ী শ্রমিককে ‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের’ মাধ্যমে অবসরে পাঠানো হয়। সরকার বলছে, আধুনিকায়ন করে এসব পাটকল সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে নতুন করে চালু করা হবে।




