
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ‘বাছাই করা’ সদস্যদের এনে কাশ্মীর সম্পর্কে ‘ভালো চিত্র’ প্রচারের চেষ্টা করেছিল নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার। কিন্তু ধর্মঘট, স্বাধীনতাকামীদের হামলা আর দফায় দফায় বিক্ষোভে সেই প্রচেষ্টা দৃশ্যত ব্যর্থ হয়েছে।
প্রশাসনের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার জানায়, বুধবার অনন্তনাগ ও কুপওয়ারায় যাওয়ার কথা ছিল প্রতিনিধি দলের। বিক্ষোভের জেরে সেই সফর বাতিল করা হয়েছে।
প্রতিনিধি দলের সফরের প্রথম দিন মঙ্গলবার সকাল থেকেই শ্রীনগর, গান্ধেরবাল, বদগাম, বারামুলা, কুপওয়ারা, বান্দিপোরা, সোপোর, অনন্তনাগ, পুলওয়ামা, শোপিয়ান ও কুলগামে বিক্ষোভ শুরু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ দিন ২৩টি এলাকায় বিক্ষোভকারী জনতার সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন।
জানা গেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখাতে ১০ম শ্রেণির পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়। কিন্তু অন্যান্য দিন সকালে কিছু দোকান খোলা থাকলেও এদিন বন্ধ ছিল সব দোকান। বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা আগে থেকেই কারাগারে।
যদিও হরতালের ডাকও দেওয়া হয়নি, কিন্তু ইউরোপীয় প্রতিনিধি দলের সফরের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। স্তব্ধ ছিল গণপরিবহন ব্যবস্থাও।
এদিকে প্রতিনিধি দলের সদস্য বাছাই ও তাদের আমন্ত্রণ জানানোর শর্ত নিয়ে শুরু থেকেই অস্বস্তি দেখা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম কেন্দ্র ব্রাসেলসে।
কারণ, এই দলের ২৩ জন সদস্যের প্রত্যেকেই উগ্র জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিনিধি। তাদের অনেকেই আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের ধারণারই বিরোধী।
প্রতিনিধি বাছাইয়ের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের অনেকেই খুশি নন। আগেই বিবৃতি দিয়ে এই সফর থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে তারা জানিয়েছে, কাশ্মীরে নিতান্তই ‘ব্যক্তিগত’ সফরে গিয়েছেন পার্লামেন্টের ওই সদস্যেরা।
এছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টের লিবারেল ডেমোক্র্যাট সদস্য ক্রিস ডেভিস দাবি করেন, তিনি কাশ্মীরে গিয়ে অবাধে ঘুরতে চেয়েছিলেন। তাই তার আমন্ত্রণ খারিজ করেছে দিল্লি।
ক্রিসের প্রশ্ন, ‘ভারত সরকার কী লুকোতে চাইছে? সফররত সাংবাদিক বা আইনসভার সদস্যদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না কেন?’
তার মতে, ‘সামরিক শাসন’ জারি করে কোনো সরকার মানুষের হৃদয় জয় করতে পারে না। এর পরে পাল্টা সহিংসতা হতেই পারে।
এ দিনই কাশ্মীর নিয়ে ফের মুখ খুলেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশন। সংস্থাটির মুখপাত্র রুপার্ট কোলভিল বলেন, ‘কাশ্মীরের মানুষ এখনো অনেক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত। ভারতের কাছে আমাদের অনুরোধ, নিষেধাজ্ঞা তুলে তাদের মানবাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক।’
হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার গত ৫ আগস্ট কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক ও রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার পর ভারত শাসিত অঞ্চলটি কার্যত বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এরই মধ্যে সেখানে বেশ কিছু সহিংস ঘটনা ঘটেছে।




