বার্সার মাঠে ক্লাসিকো জিতল রিয়াল
সময়টা ভালো যাচ্ছিল না রিয়াল মাদ্রিদের। নতুন মৌসুমের শুরু থেকেই চেনা ছন্দে ছিল না স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। তার উপর এল ক্লাসিকোর আগে হেরে বসে টানা দুই ম্যাচ। কিন্তু চির প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে মাঠে নামতেই যেন বদলে গেল লস ব্লাঙ্কোসরা। মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো জিতে ফিরল প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে।
শনিবার ন্যু ক্যাম্পে বার্সেলোনাকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। দলটির পক্ষে একটি করে গোল করেছেন ফেদেরিকো ভালভার্দে, সার্জিও রামোস ও লুকা মদ্রিচ। বার্সার পক্ষে একটি গোল পরিশোধ করেন আনসু ফাতি।
ম্যাচর স্কোর লাইন হয়তো রিয়ালের আধিপত্যের কথাই বলছে। তবে জিদানের দলের এই জয় তুলে নেওয়া অতটা সহজ হয়নি। শুরু থেকেই রোমাঞ্চকর এক লড়াই উপভোগ করেছেন দর্শকেরা। ম্যাচের প্রথম ৮ মিনিটেই দুই দলের একটি করে গোল আদায় করা। দুই দলেরই প্রায় সমানে সমান বল দখলে রেখে খেলা। (বার্সার ৫২ শতাংশ, রিয়াল ৪৮ শতাংশ)। যে লড়াইটায় জয়-পরাজয় নির্ধারন হয়েছে মূলত শেষ দিকে রিয়ালের দৃঢ় থাকাতেই। আর কিছু সুযোগ হাতছাড়া করাকেও দায় দিতে পারেন মেসিরা।
করোনার কারণে দর্শকশূন্য মাঠে খেলা হয়েছে। স্বাগতিকদের হতভম্ব করে মাত্র ৫ মিনিটেই লিড নেয় রিয়াল। করিম বেনজেমার বাড়িয়ে দেওয়া বল ডি-বক্সের মুখ থেকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ দক্ষতায় তা জালে জড়িয়ে দেন ফেদেরিকো ভালভার্দে।
তবে আনসু ফাতির দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে তিন মিনিটের মধ্যে সমতায় ফিরে বার্সা। এই গোলের মাধ্যমে দারুণ এক রেকর্ড গড়েছেন ফাতি। এল ক্লাসিকোতে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করার কীর্তি এই ১৭ বছর বয়সীর।
২৪ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত রিয়াল। কিন্তু দারুণ এক সুযোগ হাতছাড়া করেন বেনজেমা। এর ঠিক আগ মুহূর্তেই লিওনেল মেসির শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন রিয়াল গোলরক্ষক কোর্তোয়া। ১-১ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পরও আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণে জমে উঠে ম্যাচ। খেলার ৫২ মিনিটে মেসির পাস ধরে রিয়ালের ডি-বক্সে বিপদজনক ভাবে ঢুকে পড়েছিলেন ফাতি। তবে রামোসের কৌশলের কাছে পরাস্ত হতে হয় তাকে। যদিও দূরের পোস্ট লক্ষ্য রেখে শট নিয়েছিলেন। তবে সেটি চলে যায় বাইরে দিয়ে।
৫৪ মিনিটে ফাতির দারুণ এক ক্রস থেকে হেড করেছিলেন কুতিনিও। কিন্তু পোস্টে রাখতে পারেননি। স্বাগতিকদের ভালো এক সুযোগ হাতছাড়া হয় তাতে। কুতিনিওর প্রচেষ্টা সফল হলে হয়তো ম্যাচের ফলও ভিন্ন হতে পারত।
ম্যাচের ৬২ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় বার্সা। রামোসকে টেনে ধরেছিলেন লংলে। রেফারি পোনাল্টির বাঁশি বাজান রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষে। স্পট কিক থেকে গোল করতে ভুল করেননি রামোস। ২-১ এ এগিয়ে যায় জিদানের দল।
এদিন লুকা মদ্রিচকে শুরুর একাদশে নামাননি জিদান। ৬৯ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোলদাতা ভালভার্দের বদলি হিসেবে মদ্রিচকে নামান তিনি। শেষ পর্যন্ত মদ্রিচের গতির কাছেই যেন হার মানে বার্সা।
৮৫ মিনিটে দুই দফায় বার্সাকে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন গোলরক্ষক নেতো। কিন্তু পারেননি ৮৯ মিনিটেরটা। লুকা মদ্রিচ গোল করেন ব্যবধান ৩-১ করেন। ভিনিয়ুস জুনিয়রকে থামাতে পারলেও নোতোকে ঠিকই ফাঁকি দেন মদ্রিচ। বার্সাকে ডুবতে হয় চূড়ান্ত হতাশায়। কোচিং ক্যারিয়ারে প্রথম এল ক্লাসিকোতে হারের বেদনায় পুড়েন আলোচিত কোচ রোনাল্ড কোম্যান। দেশ রূপান্তর




