বাকৃবিতে বন্ধু মিলনের উৎসব

দীর্ঘদিন পর আবারো পুরনো বন্ধুদের সাথে দেখা হয়ে খুব ভালো লাগছে। কর্মব্যস্ত জীবনে ক্যাম্পাসে এসে সেই পুরনো বন্ধুদের সাথে গল্প-গুজব, আড্ডা সত্যিই ভুলার মতো না। বন্ধু পুনর্মিলনীতে এসে কথাগুলো বলছিলেন ১৯৯৬-৯৭ সেশনের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) পশুপালন অনুষদের এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী রফিকুল আলম খান জিমি।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি আরো বলেন, বয়স যতই বাড়ুক, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুম, আবাসিক হলগুলোতে গেলে মনে এখনও যেন আমরা নবীনই রয়ে গেছি।
মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের জাহেদুল আলম রুবেল নামের আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী বলেন, ক্যম্পাসে কাটানো অনুভূতিটা একেবারেই অন্যরকম, চিরচেনা সবুজ এ ক্যাম্পাসে আসার পর নিজেকে আবার তরুণ মনে হচ্ছে। বার বার মনে পড়ছে ক্যাম্পাসে কাটানো স্মৃতিকাতর দিনগুলোর কথা। কাজের তাগিদে অনেক বন্ধুর সাথে দেখা হত কিন্তু এমন অনেক বন্ধুই ছিল যাদের সাথে অনেক বছর পর প্রথমবারের মধ্যে দেখা হলো। তাদের দেখে কি যে ভালো লাগছে, সে অনুভূতি বোঝাতে পারবো না। বন্ধুরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে এসেছে। তাদেরকে দেখে আরো বেশি ভালো লাগছে। আমাদের কৃষিবিদ কমিউনিটি বড় হচ্ছে এটা আমাদের জন্যই আশীর্বাদ। এ প্রজন্মই তাদেরকে বাঁচিয়ে রাখবে বলে তার বিশ্বাস।
কৃষিবিদ মা-বাবার সাথে পুর্নমিলনী অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে এসেছে মাহিশা বিনতে বেলাল। বাবা-মায়ের মুখে চিরসবুজ এ ক্যাম্পাসের কথা শুনেছে। প্রথমবারের মতো চিরসবুজের এ ক্যাম্পাসে এসে সেও মনস্থির করে ফেলেছে দেশসেরা এ প্রতিষ্ঠানেই ভবিষ্যতে পড়াশোনা করবে।
জুবায়েদ আল হাফিজ রুম্মান বলেন, দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সাথে মিলিত হয়ে মনে হচ্ছে ফিরে গেছি ২০ বছর আগের সেই সোনালী দিনগুলোতে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার নয়, এ যেন শুধুই অনুভব করার বিষয়। এতদিন পর বন্ধুদের সাথে মিলতে পারাটা কত যে আনন্দের সেটা কাউকে বলে বুঝানো যাবে না। সত্যিই ব্রহ্মপুত্র পাড়ের এই ক্যাম্পাস সবাইকে হাতছানি দিয়ে ডাকে, তাই এতো বড় মিলনমেলা।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে দু’দিনব্যাপী বন্ধু পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থেকে উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো: জসিমউদ্দিন খান। পুনর্মিলনী কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো: আশিক-ই-রাব্বানীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সচ্চিদানন্দ দাস চৌধুরী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বন্ধুদের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য দেন পুনর্মিলনীর যুগ্ম আহবায়ক বজলুর রহমান মোল্যা, শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন এম এ রিপন।
উদ্বোধনী শেষে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলানায়নের মুক্তমঞ্চ থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। সূচিতে আরো রয়েছে, বিকালে পিঠা উৎসব, সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাতে ফানুস উড়ানো ও ফায়ার ওয়ার্কস।
আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হবে দিনব্যাপী খেলাধুলা ও জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে সমাপনী অনুষ্ঠান। নয়া দিগন্ত




