খেলা

বদলে যাচ্ছে টেস্টের জার্সি!

স্পোর্টস ডেস্ক : টেস্ট ক্রিকেটের জৌলুস হারিয়েছে স্বল্প দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটের কারণে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের কারণে জাতীয় দল থেকে দ্রুত অবসর নিয়ে সারা বিশ্বের টুর্নামেন্টগুলো খেলে বেড়ায় বিভিন্ন নামকরা খেলোয়াড়রা। আইপিএল, বিপিএল, বিগব্যাশের মতো টুর্নামেন্টে টাকার ছড়াছড়িতে টেস্ট খেলার প্রতি অনীহাও বড় একটি কারণ। যদিও ক্রিকেটের এই রাজকীয় খেলা চালু রাখতে এবং হারানো জৌলুস ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে আইসিসি। বেশকিছু নিয়মে পরিবর্তন আনছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
ওয়ানডে ক্রিকেটে খেলোয়াড়েরা রঙিন পোশাকে খেলছেন বহু বছর আগে থেকেই। ৫০ ওভারের ক্রিকেটও যে এককালে সাদা পোশাক পরে হতো, সেটি হয়তো ভুলে গেছেন অনেকেই। জার্সির পেছনে খেলোয়াড়দের নাম থাকার বিষয়টিও অনেক পুরোনো। ফুটবল ও অন্যান্য খেলার আদলে খেলোয়াড়দের জার্সিতে নম্বরও লেখা হচ্ছে অনেক দিন আগে থেকে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের পোশাকের পেছনে নাম ও নম্বর থাকলেও টেস্ট ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের পোশাকে আদি ব্যাপারটিই ধরে রাখা হয়েছিল এত দিন। এবার টেস্টেও জার্সির পেছনে নাম ও নম্বর লেখা শুরু হচ্ছে। আসছে অ্যাশেজ সিরিজেই এটি দেখা যাবে।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশেই খেলোয়াড়দের জার্সিতে নম্বর ব্যবহার করা হয়। এটি এবার চলে আসছে টেস্ট ক্রিকেটে। ১৮৭৭ সালে টেস্ট ক্রিকেটে যাত্রা শুরুর পর অনেক ব্যাপারেই পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু পোশাকের ব্যাপারে ১৪২ বছরের প্রথা কেউ ভাঙতে চায়নি। দিনরাতের টেস্ট ও গোলাপি বল সংযোজনের পর জার্সির পেছনে নাম ও নম্বর হচ্ছে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। আগামী ১ আগস্ট থেকে এজবাস্টনে শুরু হতে যাওয়া ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্ট থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের জার্সির পেছনে নাম ও নম্বর লেখা শুরু হবে।
এ বছরের মার্চেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। অ্যাশেজ সিরিজ দিয়ে শুরু হচ্ছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপও। নতুন একটা উদ্যোগের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে নতুন প্রথা। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসিও ব্যাপারটিকে স্বাগতে জানিয়েছে। তাদের মতে, টেস্ট ক্রিকেটকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে এটি কাজে দেবে।
ক্রিকেটের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) টেস্টের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর লক্ষ্যে যে নতুন প্রস্তাবগুলো দিয়েছিল, তাতে ছিল জার্সিতে নাম ও নম্বর লেখার ব্যাপারটিও। ২০০১ সালে ইংল্যান্ডই প্রথম টেস্টে খেলোয়াড়দের ক্যাপে নম্বর লেখার প্রচলন করে। সেই নম্বরটি অবশ্য তাঁর অভিষিক্ত হওয়ার নম্বর। এটি মোটামুটি সব টেস্ট খেলুড়ে দেশই অনুসরণ করে আসছে গত ১৮ বছর ধরে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button