বদরগঞ্জ পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে ১১ কাউন্সিলরের অনাস্থাপত্র

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র উত্তম কুমার সাহার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ১১ কাউন্সিলর অনাস্থা এনেছেন।
রোববার সকালে রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসানের কার্যালয়ে গিয়ে তারা ১৩টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উপস্থাপন করে মেয়রের বিরুদ্ধে ওই অনাস্থার আবেদন করেন। মোট ছয় পৃষ্ঠার ওই অনাস্থাপত্রে মেয়র উত্তম কুমার সাহার বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির চিত্রসহ বেশকিছু অজানা তথ্য তুলে ধরেন কাউন্সিলররা। এসময় তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে মেয়র উত্তমের আনা সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তি দাবি করেন। অনাস্থার অনুলিপি দেয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব, দুদক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় এমপিসহ মোট ১২টি দপ্তরে।
অনাস্থাপত্র দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন- পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক, ইউনুস আলী, খায়রুল আনাম কোহিনুর, নীলকান্ত পাইকাড়, খোকন কুমার দাস, মিজানুর রহমান,তহিদুল ইসলাম বাবু, মোকছেদুর রহমান, মোকছেদুল আলম, আজিমা বেগম ও মিতু রানী দাস। অনাস্থাপত্রে কাউন্সিলররা উল্লেখ করেন- মেয়র উত্তম কুমার সাহা পৌরসভার হিসাব-নিকাশ দেন না। কথায় কথায় কাউন্সিলরদের হুমকি-ধমকি এমনকি মারডাং করার ভয়ভীতি দেখান। তিনি ২০১৬ সাল থেকে চলতি বছরের ২০ জুন পর্যন্ত তিন দফায় কর্মচারি নিয়োগ দিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন । এরমধ্যে চলতি বছরের ২০ জুন নিয়োগ পরীক্ষার আগে যাদের বিরুদ্ধে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তারাই নিয়োগ পরীক্ষায় চুড়ান্ত হন। ওই নিয়োগে একই দিনে দুপুরে লিখিত, সন্ধ্যায় মৌখিক পরীক্ষা ও রাতে নিয়োগ পরীক্ষার সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে সরকারের দেয়া ডেঙ্গু নিধন কার্যক্রমের আট লক্ষ টাকা আতœসাৎ করেছেন। এছাড়াও সাম্প্রতিক করোনা দুর্যোগে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণের তিন লাখ ৬৫ হাজার টাকা নয় ছয় করেছেন।
মেয়র উত্তম কুমার সাহা বয়সসীমার চাকরি বিধি অমান্য করে বেশ কয়েকজন কর্মচারি নিয়োগ দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়। এদিকে কোটি টাকা নিয়ে গত ২০ জুন ছয় কর্মচারি নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় ১১ কাউন্সিলর পৌর মিলনায়তনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। ওই সাংবাদিক সম্মেলনে মেয়রের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরায় মেয়র উত্তম সাহা কাউন্সিলর খোকন কুমার দাস ও একরামুল হককে দৃস্কৃতিকারী দিয়ে খুন-জখম করার হুমকি দেন বলে অনাস্থাপত্রে উল্লেখ করা হয়।
কাউন্সিলর মিজানুর রহমান ও খোকন কুমার দাস বলেন, ‘সুনির্দিষ্টভাবে ১৩টি অভিযোগ তুলে অনিয়ম-দুর্নীতির মহারাজা মেয়র উত্তম সাহার আসল চরিত্র আমরা তুলে ধরেছি। তিনি পৌরসভাকে এমনকি তিনি প্রায়ই আমাদের তাচ্ছিল্য করে অমানবিক আচরণ করতেন। এমনকি কাউন্সিলর ছাড়াই
পৌরসভা চলবে বলে দম্ভোক্তি করে থাকেন।



