Uncategorized

বদরগঞ্জে রেললাইনের ধারে লাগানো সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে সাবাড়

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় রেল লাইনের দু’ধারে লাগানো সামাজিক বনায়ন কর্মসুচির শত শত গাছ কেটে সাবাড় করছেন খোদ উপকারভোগী সদস্যরাই। এবিষয়ে তাদের বক্তব্য- হতাশা থেকেই গাছ নিধণ। আর বন কর্মকর্তা বলছেন- বিষয়টি জানা নেই।
উল্লেখ্য- প্রায় ২০ বছর আগে আউলিয়াগঞ্জ রেল স্টেশন থেকে বদরগঞ্জ রেল স্টেশন পর্যন্ত সামাজিক বনায়ন কর্মসুচির আওতায় রেললাইনের দু’ধারে গাছ লাগানো হয়। এজন্য এলাকা ভিত্তিক বেশ ক’টি উপকারভোগী দল গঠণ করা হয়। উপকারভোগী দলের সদস্যরা চারাগুলোর পরিচর্যাসহ বাগান দেখভাল করে থাকেন। বর্তমানে গাছগুলো পরিপক্ক হওয়ায় নির্বিচারে গাছ কেটে সাবাড় করছেন খোদ উপকারভোগী দলের সদস্যরাই। সদস্যরা গাছ কেটে ট্রলি বোঝাই করে বিক্রি করছেন বিভিন্ন কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছে। গত তিন দিন ধরে প্রকাশ্য দিবালোকে চলছে গাছ কাটার মহোৎসব।
আজ বুধবার(০৭অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিন আউলিয়াগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে ডাঙ্গাপাড়া রেলগেট পর্যন্ত পরিদর্শণকালে দেখা গেছে নির্বিচারে গাছ কাটার এক অমানবিক দৃশ্য। কেউ কেউ গাছের গোড়ায় করাত চালাচ্ছেন, কেউবা রশি টানছেন। আবার কেউ কেউ সেগুলো রেললাইনের উপর দিয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছেন কাঠ বহনকারী ট্রলির কাছে। এসময় কথা হয় গাছ কাটতে ব্যস্ত থাকা হারুন মিয়া, মোশারাফ ও মশিউর নামে তিন ব্যক্তির সাথে। তারা নিজেদের উপকারভোগী সদস্য দাবী করে বলেন, গাছগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিচর্যা করছি। এখন কাটার উপযুক্ত হলেও বনবিভাগের তেমন সাড়া মিলছেনা। একারণে সদস্যরা নিজ উদ্যোগে গাছ কেটে বিক্রি করছেন। গাছ কাটার অনুমতি আছে কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে তারা তিনজনই বলেন, হতাশা থেকে গাছ কাটছেন সদস্যরা। এতে কারোরই কোন অনুমতি নেই। তবে উপকারভোগী দলের সভাপতি ফজলুল হক বলেন, রেল কর্মচারীদের ডিস্টার্বের কারণে সদস্যরা গাছ কাটতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ তারা প্রতিনিয়ত এলাকায় আসেন আর গাছ কাটতে বলেন। তার দাবী- ভাল গাছ নয়, রেললাইনের উপরে হেলে পড়া গাছগুলো কাটা হচ্ছে।
এবিষয়ে জানতে বনবিভাগের বিট অফিসার মোরশেদ আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি জানা নেই। তবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button