
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মদ-জুয়ার আখড়া হিসেবে পরিচিত ফু-ওয়াং ক্লাব থেকে অবৈধভাবে আনা মদ, বিয়ার ও আমদানি নিষিদ্ধ সিগারেট ও সাত লাখ টাকা জব্দ করেছে র্যাব।
এরপরই ক্লাবটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। এ সময় ক্লাবের ম্যানেজারসহ আটক করেছে র্যাব।
ক্লাবটিতে বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে অভিযান চালায় র্যাব। বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে অভিযান শেষ হয়। পরে মাদকের অনুমোদন ও পরিমাণ যাচাই করতে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকেও সহায়তার জন্য ডাকা হয়।
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, গত রাতে আমরা ফু-ওয়াং ক্লাবে অভিযান পরিচালনা করেছিলাম এবং সারা রাত ধরে আমরা এই অভিযানটি চালাই। সকাল বেলা সব গণনা শেষ করে আমরা এখানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদক পাই, যা তাদের মজুদ বইতে সঠিকভাবে উল্লেখ নেই।
তিনি বলেন, আমরা ২ হাজার ২শ’র বেশি বিদেশি মদ পাই এবং ১০ হাজারের উপরে বিয়ার পেয়েছি। এখন যে জিনিসটা ইমপোর্টেন্যান্ট, যেকোনো অবৈধ জিনিসের সঙ্গে যদি বৈধ জিনিস থাকে তাহলে পুরো জিনিসটাই কিন্তু অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়। একই সঙ্গে একটা ট্রেড লাইসেন্সের বিপরীতে কিন্তু একটা সুনির্দিষ্ট পরিমাপ থাকে যে একটা ট্রেড লাইসেন্সে কি পরিমাণ বিয়ার বা মদ থাকবে। সেই পরিমাপের কোনো মাত্রা এখানে ছিল না এবং অধিক মাত্রায় মদ এবং বিয়ার আমরা পেয়েছি।
সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, এখানে বিদেশি কিছু সিগারেট আছে যেগুলো আমদানি নিষিদ্ধ। এর কোনো বৈধ কাগজপত্র তারা আমাদের দেখাতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, এখানে যে কর্মচারীরা আছেন যাদের মাদক বিক্রি করার জন্য লাইসেন্স থাকার কথা ছিল সেগুলো সঠিকভাবে নেই। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদকদ্রব্য আইনে মামলা রজু করব।
র্যাবের এই পরিচালক বলেন, মামলায় প্রধান আসামি অর্থাৎ এই ক্লাবের যে স্বত্ত্বাধিকার মো. শেখ নুরুল ইসলাম তার ট্রেড লাইসেন্স অনুযায়ী আমরা তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করব। তার বিরুদ্ধে আমরা মামলা দায়ের কবর। এবং যে তিনজন কর্মচারী আছেন ম্যানেজার, বার টেন্ডার তাদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা দায়ের করছি।
তিনি আরও জানান, ফু ওয়াং ক্লাবের মালিক শেখ মনিরুল ইসলাম। অভিযানের সময় তাকে পাওয়া যায়নি। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।




