Uncategorized

পুলিশের বিরুদ্ধে এজাহার বদলের অভিযোগ

রাজশাহীতে বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন ডিম বিক্রেতা সুলতান মোল্লা (৪০)। পরে তাকে রামেক হাসপাতালে নেওয়ার পর তার শরীর থেকে একটি পা কেটে বাদ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও মামলায় পা কেটে বাদ দেওয়ার কথা উল্লেখ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। বাদির দাবি, হাসপাতালে গিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে পুলিশ এজাহার তৈরি করেছে। বাদি থানায় যাননি।
গত বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহী নগরের মতিহার থানায় বিনোদপুর এলাকায়। সুলতানের বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার পালি মোড় এলাকায়। বাবার নাম ঝড়ু মোল্লা।
মামলার বাদি ও সুলতানের স্ত্রী রিনা খাতুন জানান, তার স্বামী দুর্গাপুরের একটি খামার থেকে ডিম নিয়ে রাজশাহীর আরডিএ মার্কেটে সরবরাহ করতেন। সেদিন সকালেও তিনি ডিমের ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। ডিম বিক্রি করা ছাড়া সুলতানের আয়ের আর কোনো উৎস নেই। এখন পর্যন্ত কোথাও থেকে তারা কোনো সহযোগিতা পাননি। এমনকি যে গাড়ির ধাক্কায় সুলতানের পা কাটা গেছে সেই গাড়ির লোকজনও কোনো খোঁজ নেননি।
সুলতানের বড় ভাই আবদুল হান্নান জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় আড়াইটার দিকে নগরীর মতিহার থানার এসআই সিদ্দিক হাসপাতালে গিয়ে মামলা করার জন্য রিনা বেগমকে ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে জোর করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে নিয়েছে।
মামলায়, উর্মি পরিবহন নামের একটি বেপরোয়া গতির বাসের ধাক্কায় তার ভাই সুলতান মোল্লার প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ডিম ও ভ্যানগাড়ি ভেঙে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হলেও বাম পা উরু থেকে কেটে বাদ দিতে হয়েছে, এর উল্লেখ নেই। শুধু বলা হয়েছে বাসের ধাক্কায় সুলতানের পা গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়েছে।
নগরীর মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার যে ধারা মামলায় তাই ব্যবহার করা হয়েছে। পা কেটে ফেলে দিলেও যে ধারা, গুরুতর রক্তাক্ত জখম হলেও একই ধারা। দুই পক্ষই মীমাংসার চেষ্টা করছেন।
তবে হাসপাতালে গিয়ে পুলিশের সাদা কাগজে সই নিয়ে এসে নিজের মত এজাহার সাজানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি কোনো মন্তব্য করেননি।
হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, সুলতান রামেক হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা গুরুতর।
ইত্তেফাক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button