অর্থনৈতিক সংবাদশিরোনাম

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হবে ৫ সরকারি প্রতিষ্ঠান

পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানির শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে জ্বালানি খাতের সরকারি পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর বাইরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে এমন দুই প্রতিষ্ঠানের আরো শেয়ার ছাড়া হবে।
রবিবার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ১৪ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
যে পাঁচ প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হবে সেগুলো হলো নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি, ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (ইজিসিবি), আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড, বি-আর পাওয়ারজেন লিমিটেড (বিআরপিএল) ও গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)।
এর বাইরে তালিকাভুক্ত তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (টিজিটিডিসিএল) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের সরকারি অংশের আরো শেয়ার ছাড়া হবে।
সরকারি মালিকানাধীন লাভজনক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার পুঁজিবাজারে ছাড়া বিষয়ে আলোচনা শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, পুঁজিবাজার চাঙ্গা করতে শিগগিরই পুঁজিবাজারে শেয়ার ছাড়বে সাতটি লাভজনক সরকারি প্রতিষ্ঠান। এর পাশাপাশি আরও সরকারি প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারের আসা উচিত। বাজার চাঙ্গা করতে কোম্পানিগুলো টেকসই করতে হবে। প্রথমে প্রতিটি কোম্পানির ব্যালান্সশিটগুলো আমাদের বিশ্লেষণ করতে হবে। এখন থেকে ১০ বছর আগের সম্পদের মূল্য, আর এখনকার মূল্য এক নয়। এখন বর্তমান দরে এগুলো আমাদের পুনর্মূল্যায়ণ করতে হবে। পুনর্মূল্যায়ণ করতে যে সময় লাগবে সেই সময় কোম্পানিগুলোকে দিতে হবে এবং এ জন্য দুই মাসের মতো সময় লাগতে পারে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সম্পদ পুনর্মূল্যায়ণের ভিত্তিতেই সরকারি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হবে। এরপর ধীরে ধীরে এসব কোম্পানির ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ারবাজারে ছাড়া হবে। দুই মাসের মধ্যেই কোম্পানিগুলো আমাদের তথ্য দেবে। বাইরের বিভিন্ন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান দিয়ে সম্পদের মূল্যায়ণ করা হবে। আইসিবি অথবা অন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সরকারি কোম্পানিগুলোর ইস্যু ম্যানজার হিসেবে কাজ করতে পারে।
সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর শেয়ার পুঁজিবাজারে ছাড়ার বিষয়ে পর্যালোচনা সভার ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। যেখানে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব ও বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ছাড়াও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ১৪ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
পুঁজিবাজারে বড় ধরনের দরপতন রোধে করণীয় নির্ধারণে ১৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে যান এসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন। বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার পরও পুঁজিবাজারে দরপতন অব্যাহত থাকায় প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চান তিনি। বাজারে তারল্য জোগান, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ঋণসুবিধার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে মানসম্মত আইপিও বাড়াতে বহুজাতিক ও সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি তালিকাভুক্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চান এসইসির চেয়ারম্যান।
ওই বৈঠকের পর থেকেই সরকারি কোম্পানি তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে ঋণ দিতে তহবিল গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।
অর্থমন্ত্রী যে সাত কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন, তার বাইরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সাত কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস লিমিটেড, বাখরাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, জালালাবাদ গ্যাস টিঅ্যান্ডটি সিস্টেম, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button